9-obamaআন্তর্জাতিক ডেস্ক: ধোঁয়া ওঠা গরম কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে পত্রিকায় চোখ বুলিয়ে যখন দিন শুরু হয় অধিকাংশ মানুষের, সকালের সেই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত খুন, ধ্বংসযজ্ঞ আর বিশৃঙ্খলার খবরে নজর থাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের। অনলাইন সংবাদ সংস্থা ‘ভক্স’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, “সকালের চায়ের সঙ্গে আমি একটি পাতলা বইও পাই, যেটি মৃত্যু, ধ্বংস, সঙ্ঘাত আর বিশৃঙ্খলার খবরে পূর্ণ থাকে।”

দুনিয়াজুড়ে সংঘটিত নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নিয়ে গোয়েন্দাদের তৈরি করা প্রতিবেদনই প্রতিদিন সকালে নাস্তার টেবিলে ওবামার হাতে আসে বলে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা যেসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন, তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ বলা যায় এই ‘পাতলা বইটি’কে।

সপ্তাহের ছয়দিনই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে তা দেওয়া হয়। একে ‘প্রেসিডেন্টের জন্য দৈনন্দিন ব্রিফ-পিডিবি’ বলা হয়, যার চর্চা শুরু হয়েছিল প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানের সময় থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর তথ্য মতে, ১৯৫১ সালে প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির সময় এটির নাম হয় ‘কারেন্ট ইন্টেলিজেন্স বুলেটিন’। প্রেসিডেন্ট লিনডন বি জনসনের সময় থেকে এটি প্রেসিডেন্টের দৈনন্দিন ব্রিফ হয়।

কী থাকে এই বইয়ে?
সিআইএর সহায়তায় তৈরি করা বইটি প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছানোর দায়িত্ব জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালকের কার্যালয়ের। সোমবার প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে ওবামাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘অতি গোপনীয়’ এই বইয়ে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোই থাকে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি ও বিপজ্জনক সব তথ্যই এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট এবং তার নিরাপ্ত্তা কাউন্সিলের সদস্যদের সরবরাহ করা হয়।

বই বলা হলেও প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় এটি এখন আধুনিক রূপ পেয়েছে। প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসাবে ওবামাই প্রথমবারের মতো গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি ট্যাবের মাধ্যমে পান ‘মৃত্যু আর ধ্বংসের’ খবর। এরপর থেকে প্রতিদিনই প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি আইপ্যাড, যাতে ‘বইটি’ সহজেই ডাউনলোড করে নেওয়া যায়। এরপরই ওবামা প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন, যাতে গোয়েন্দাদের ওই প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্য নিয়ে আলোচনা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে সরবরাহ করা এই গোয়েন্দা প্রতিবেদন অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে করা হয়ে থাকে। এখন পর্যন্ত গুটিকয়েক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো ২০০১ সালের ৬ অগাস্টের ব্রিফ, যাতে ‘ওসামা বিন লাদেন যুক্তরাষ্ট্রে’ হামলা চালাতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে সতর্ক করা হয়। ২০০১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ারে হামলার ঘটনা তদন্তের অংশ হিসেবে ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়েছিল। “গোয়েন্দা তথ্য, বিদেশি সরকার ও গণমাধ্যমের খবরে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ১৯৯৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলা চালাতে চাইছেন বিন লাদেন,” বলা হয় ওই পিডিবিতে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য