04-parisবিনোদন: ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে যেকোনো অ্যাকশন দৃশ্যের শুটিং। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিদ্রুপাত্মক সাপ্তাহিক পত্রিকা শার্লি এব্দুতে সন্তাসী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিবিসিকে ফরাসি পুলিশ কমান্ডার সিলভি বার্নাড বলেন, “অ্যাকশন দৃশ্য ধারণের ব্যাপারে কিছু সমস্যা থাকে। যেমন ধরুন, এসব দৃশ্যে অভিনয় করা উর্দি পরা লোকেরা সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যে পরিণত হতে পারে।”
তিনি আরো বলেন, “তাছাড়া, অভিনয়শিল্পীরা সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে এই অতি স্পর্শকাতর সময়টাতে।”
সিলভি বার্নাড আরও বলেন, নকল বন্দুক এবং কোনো স্পেশাল ইফেক্ট ব্যবহার করে শুটিংয়েও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে।
জানুয়ারিতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ২০ জন নিহত হওয়ায় প্যারিসে এখনও বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি। পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মীরা সতর্ক প্রহরা দিচ্ছেন ধর্মীয় উপাসনালয়, সংবাদ প্রতিষ্ঠান এবং বড় বড় শপিং মলগুলোতে।
ফরাসি পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি ঠিক কতদিনের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে, সিলভি বার্নাডের মতে, এই পরিস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করাটাই স্বাভাবিক।
“টিভিতে শার্লি এব্দুর ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য শুনে আমি স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম। তাদের অনেকেই বলেছিলেন, মনে হচ্ছিলো যেন কোনো সিনেমার শুটিং দেখছি।”
সুপ্রশস্ত বুলেভার্দ এবং আইফেল টাওয়ার ও লুভরের মতো বিখ্যাত স্থাপনার কারণে নির্মাতাদের কাছে শুটিংয়ের জন্য খুবই জনপ্রিয় একটি জায়গা প্যারিস। নগর কর্তৃপক্ষের এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, ২০১৪ সালেই শহরটিতে শুটিং করা হয়েছে ৯৩০টি সিনেমার, যার মধ্যে ২০টি ছিল আন্তর্জাতিক প্রযোজনার।
সাম্প্রতিক সময়ের হিট অ্যাকশন সিনেমা, যেমন টম ক্রুজ অভিনীত ‘এজ অফ টুমরো’, স্কারলেট জোহানসনের ‘লুসি’, লিয়াম নিসনের ‘টেকেন’- এ গুরুত্বপূর্ণ অংশের শুটিং হয়েছে প্যারিসে। ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া ম্যাট ডেমনের ‘বর্ন আইডেন্টিটি’র সেই বিখ্যাত গাড়ি ধাওয়ার দৃশ্যটির শুটিংও হয়েছিল প্যারিসেই।
সিনেমা মিশনের অ্যাগনেস নাগেয়ত্তে মনে করেছেন এই নিষেধাজ্ঞা মার্কিন প্রযোজনা সংস্থাগুলোর ওপরে ‘বড় ধরনের প্রভাব’ ফেলবে।
তিনি আরও বলেন, “প্যারিসে এখন এরকম সিনেমা তৈরি করার জন্য সঠিক সময় নয়। এমনকী স্পিলবার্গও যদি জানুয়ারিতে পুলিশ এবং গোলাগুলির দৃশ্য ধারণ করতে চাইতেন প্যারিসে, সেটা সম্ভব হতো না।”
তবে, ফ্রান্সের ফিল্ম কমিশনের দাবি, এই নিষেধাজ্ঞায় তেমন কোনো প্রভাব পড়ছে না চলচ্চিত্র নির্মানে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য