1-kejriwalআন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের দিল্লী বিধানসভার নির্বাচন শনিবার শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। ভারতের নির্বাচন কমিশন জানায়, নির্বাচনে ভোট পড়ার হার ৭০ শতাংশের বেশি হতে পারে। বুথ ফেরত ভোটার জরিপে বলা হয়, আম আদমি পার্টি দিল্লীতে সরকার গঠন করবে। বুথ ফেরত জরিপে আরো বলা হয়, নির্বাচনে আম আদমি পার্টি ৩৮, বিজেপি ২৮ ও কংগ্রেস তিন আসন পাবে। সকাল ৮টায় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শেষ হয় সন্ধ্যা ৬টায়। নির্বাচনে ৭০ আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ৬৩ নারীসহ ৬৭৩ জন। নির্বাচন কমিশন আগামি মঙ্গলবার নির্বাচনের ফল প্রকাশ করবে।
নির্বাচনে মোট ১২ হাজার ১৭৭টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়ে উত্তর-পূর্ব দিল্লী (৬৬.৩৭%) আর সবচেয়ে কম ভোট পড়ে দক্ষিণ দিল্লীতে (৬১.৭%)।

নির্বাচনে বিজয়ার ব্যাপারে আশাবাদী বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী কিরন বেদী জনগণকে বিপুল সংখ্যায় বেরিয়ে এসে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আজ এক ঐতিহাসিক দিন। দিল্লীবাসীকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা কোন্ ধরনের দিল্লী চান- একটি স্বচ্ছ দিল্লী, নিরাপদ দিল্লী, একটি সমর্থ দিল্লী, নারীকে সম্মান করে এমন দিল্লী- না অন্য কিছু। নারীকে সম্মান জানানোই দিল্লীকে সম্মান জানানো। আমি সকল জনগণকে ভোট দিতে আসার আহ্বান জানাই।

বিজয়ে ব্যাপারে আশাবাদী আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিয়াল। বি কে দত্ত কলোনিতে ভোট দেয়ার পর তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস নির্বাচনে আম আদমি পার্টিই জিতবে এবং দিল্লীতে সরকার গঠন করবে।

গত বছর ভারতীয় জনতা দলের (বিজেপি) বিপুল বিজয়ের মধ্য দিয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম বড় ধরনের পরাজয়ের মুখ দেখছেন নরেন্দ্র মোদী। শনিবার অনুষ্ঠিত দিল্লি বিধানসভার নির্বাচনের বুথ ফেরত জরিপে আম আদমি পার্টি (এএপি) নিরঙ্কুশ জয় পাচ্ছে বলে দেখা গেছে, জানিয়েছে এনডিটিভি। জরিপ অনুযায়ী ফলাফল হলে এএপি’র নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল ফের দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন।

গত বছরের শুরুতে দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেয়ে কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছিলেন কেজরিওয়াল। কিন্তু তৎকালীন কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে ক্ষমতা নেয়ার ৪৯ দিনের মাথায় পদত্যাগ করেছিলেন। ওদিকে দিল্লির নির্বাচনে জয়ের জন্য উল্লেখযোগ্য রাজনীতিক পুঁজি বিনিয়োগ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। দিল্লির বিভিন্ন নির্বাচনি জনসভায় ভাষণ দিয়ে ভোটারদের কেজরিওয়ালকে প্রত্যাখান করতে বলেছিলেন। দায়িত্ব নেয়ার পর ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ায় কেজরিওয়ালকে “পেছন থেকে ছুরিকাঘাতকারী” হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

তবে এত সব করেও কাজ হয়নি। এক বছর আগের নির্বাচনে ৩১টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল নির্বাচিত হয়েছিল বিজেপি, জরিপ অনুযায়ী সেই সংখ্যা কমে এবার দলটি পেতে যাচ্ছে মাত্র ২৬টি আসন।

মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর চারটি রাজ্য (হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খন্ড এবং জম্মু ও কাশ্মির) বিধানসভা নির্বাচনের তিনটিতেই জয় পেয়েছে বিজেপি। সেই হিসেবে খোদ রাজধানীতে এত দৌঁড়ঝাপ করেও বিজেপির এই ফলের পূর্বাভাসকে কেজরিওয়ালের কাছে মোদীর পরাজয় বলেই বিবেচনা করছে বিভিন্ন মহল। কিন্তু দিল্লির রায়কে মোদীর পরাজয় হিসেবে নেয়া ঠিক হবে না বলে দাবি করেছেন বিজেপির মুখপাত্র শাইনা নানা চুডাসামা (শাইনা এনসি হিসেবে পরিচিত)।
অতীতে বুথ ফেরতে জরিপের আভাস অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক হয়নি জানিয়ে এনডিটিভিকে শাইনা বলেছেন, “গত বছরের জাতীয় নির্বাচনে দেশব্যাপী বিজেপি’র ভূমিধস বিজয়ের পূর্বাভাস অধিকাংশ জরিপেই পাওয়া যায়নি, তাই এসব জরিপের ফল বিবেচনার দরকার নেই।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য