নবাবগঞ্জ(দিনাজপুর)থেকে এম রুহুল আমিন প্রধানঃ মানুষ মানুষের জন্য । মানুষের সেবা করা প্রত্যেক ধর্মেই নির্দেশ রয়েছে। অসুস্থ রোগিকে পরিচর্যা করা তার র্পাশ্বে দাঁড়ানো ঈমানী দায়িত্ব। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ৭নং দাউদপুর ইউনিয়নের হাসারপাড়া  (বেলাল পাড়া) সরকারি অর্থায়নে স্থাপিত হয়েছে গুচ্ছ গ্রাম । এখানে বসবাস করবে যাদের থাকার জায়গা নেই, আশ্রয়হীন । এ গুচ্ছ গ্রামে বসবাস করে বিধবা ,অসহায় আদিবাসী নারী জুতিলা কর্মকার । গত ১৭জানুয়ারী সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়েছয়টায় নিজ গৃহে রান্নার কাজ করতে গিয়ে চুলার ও পাশ্বে থাকা কুপি বাতির আগুন অসাবধানতাবসত; চুলার আগুনে ওই গৃহিনীর প্রথমে চাদর ও পরে পরনের কাপড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে করে ওই গৃহিনীর কোমর থেকে শরীরের বেশিরভাগ অংশ আগুনে দগ্ধ হয়। গ্রাম্য অশিক্ষিত ও চিকিৎসা যোগানের অর্থের অভাবে জুতিলা কর্মকার ঘটনার ১৭দিন ধরে চিকিৎসা ছাড়ায় ঘরে পড়ে থাকে । এ বিষয়ে স্থানীয় পত্র পত্রিকায় ঘটা করে সংবাদ প্রকাশ হলে সুচিকিৎসা ও সহায়তার মহতী উদ্দোগ নিয়ে এগিয়ে আসেন বেসরকারি সংস্থা ল্যাম্ব দুর্যোগ ঝুকি হ্রাস প্রকল্প । প্রকল্পের কর্মকর্তা বিজলী রানী রায় জানান সংবাদের আলোকে সংস্থার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জুতিলার বাড়িতে যান। এর পর তারা বিষয়টি উপজেলা হাসপাতালের স্বাস্থ্য প্রশাসক ডা. মোঃ রেজাউল বারীকে অবগত করান। এর পর গত মঙ্গলবার ডা. সরজমিনে তার বাসায় দেখতে যান । সংস্থার সিএফ মন্টু সরেন সহ প্রকল্প কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন । কোন ভাবেই অগ্নিদগ্ধ জুতিলা কর্মকার হাসপাতালে আসতেরাজি হননা  তার ভাষায় বোঝানোর  চেষ্টা করেন তার শরীরের পুড়ে যাওয়া অংশ স্থানীয় কবিরাজ দ্বারা চিকিৎসা নিলেই ভাল হয়ে যাবে। কিন্তু সেখানে বাধা হয়ে দাড়াল সংস্থা ল্যাম্ব দুর্যোগ ঝুকি হ্রাস প্রকল্প ও স্বাস্থ্য প্রশাসক । অবশেষে নবাবগঞ্জ হাসপাতালে বর্তমান চিকিৎসাধীন রয়েছেন অগ্নিদগ্ধ ওই নারী । প্রকল্পের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান জুতিলার সুস্থ করতে সরকারি চিকিৎসার পাশাপাশি আর্থিক যোগান দিবেন তারা । প্রকল্প কর্মকর্তা বিজলী রানী রায় জানান ইতি মধ্যেই জুতিলার জন্য ২টি শাড়ী ২টি প্যাডিকোট ,ব্লাউজ ক্রয় করে দিয়েছেন তারা। বুধবার এ রির্পোট সংগ্রহের জন্য গেলে এলাকার সচেতন ব্যাক্তিবর্গ সংস্থার এমন মহৎ উদ্দোগ কে স্বাগত জানিয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য