একরামুল হক বেলাল,পার্বতীপুর(দিনাজপুর)প্রতিনিধিঃ পার্বতীপুরে জমির মালিকানা নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে তীর বিদ্ধ হয়ে এক যুবক নিহতসহ প্রায় ১৫জন আহত হয়। এ সময় বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী আদিবাসী পল্লীতে অগ্নিসংযোগ লুটপাটের ঘটনা ঘটায়। দু’পক্ষের মামলায় ২৬ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দিনাজপুর জেলা প্রশাসক তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত টিম গঠন করেছেন। আজ সোমবার দুপুরে সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা’র নেতৃত্বে আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় কমিটির(ককাস)একটি প্রতিনিধি দল ক্ষতিগ্রস্থ আদিবাসী পল্লী পরিদর্শন করেন। নিহতের পরিবারের বাড়ীতে না যাওয়ায় এলাকাবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

গত ২৪ জানুয়ারী শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পার্বতীপুর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের বড়দল সরকার পাড়া গ্রামের জহুরুল হক ও তার পুত্র শাফিউল ইসলাম সোহাগকে সাথে নিয়ে বোরো চাষের জমি তৈরীর জন্য মাঠে যায়। জমিতে পানি সেচের সময় উক্ত জমির দাবীদার হাবিতপুর চিড়াকুঠা গ্রামে আদিবাসী মৃত রঘুনাথ টুডুর ছেলে যোসেফ টুডুগং সহ ঝর্ণা টুঢু, হাবিল টুডু ও গোডা টুডু বাঁধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংর্ঘষে আদিবাসীদের ছোড়া তীর বিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই ভবানীপুর কামিল মাদ্রাসার আলিম শ্রেনির ছাত্র শাফিউল ইসলাম সোহাগ (২৫) ঘটনাস্থলে নিহত হয় এবং জহুরুল হক (৪৫), আদিবাসী রাকিব টুডু (২৮), রোবেন টুডু (২০), কাবলু টুডু(২১)সহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়।
তীর বিদ্ধ হয়ে সোহাগ নিহতের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আদিবাসীদের ঘর-বাড়ী লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। নিহত ভাংচুর ও অগ্নিসংযগের খবর পেয়ে পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশ, ফায়র সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের করে। পরে এলাকায় অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ, ডিবি পুলিশ, ২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসক অহম্মেদ শামীম আল রাজি, পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, ২৯ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল এম জাহিদুর রশিদ,উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাহেনুল ইসলাম, গ্রামটিতে পরিদর্শন করেছেন।
ঘটনার দিনে নিহতের চাচা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ চেলসু হেমব্রম, নরেন মাড্ডি, হাবিল টুডু ও কাবলু টুডুসহ ১৯ আদিবাসীকে গ্রেফতার করে।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসক অহাম্মেদ শামীম আল রাজি গত মঙ্গলবার অতিরিক্ত জেলা ম্যজিষ্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামকে আহবায়ক করে ৩ সদস্য বিশিষ্টি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।
আদিবাসীদের ঘর-বাড়ী ভাংচুর লুটপাটসহ অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গত বুধবার রাতে আদিবাসী মৃত যোগেন হেমরুন এর কন্যা নীলিমা হেমরুন বাদী হয়ে ৩ হাজার অজ্ঞাতনামা ও ৭৪ জন নামীও আসামী করে পার্বতীপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় পুলিশ মোশারফ হোসেন (৩৪), মোক্তার শাহ (৪০) শামসুল হক (৪৮), এমরান আলী (২৩), হাসান আলী (৪০), মামুন মন্ডল (২০), ও এরশাদ আলী (১৯) গ্রেফতার করে। পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম বলেন, আদিবাসীদের লুট হওয়া ৪০টি গরু, ১২টি ছাগল, ২টি ভেড়া, ৩টি সেলাই মেসিন, ৪টি শ্যালো মেশিন, ৫টি রিকশা ভ্যান, ১৫ বস্তা চাল, ১০ বস্তা ধান ও ২টি বাইসাইকেল উদ্ধার করে আদিবাসীদের দেয়া হয়েছে।

আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় কমিটির (ককাস) আহবায়ক ও বাংলাদেশের ওর্য়ার্কাস পাট্রির সাধারন সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি’র নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আজ সোমবার বিকেলে পার্বতীপুর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আদিবাসী পল্লী হাবিবপুর চিড়াকুটা গ্রামের আসেন। এসময় বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গনশিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী এ্যডঃ মোস্তাফিজার রহমান ফিজার, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি,নাজমুল হক প্রধান এমপি এবং ককাস প্রতিনিধি দলে অধ্যাপক মেজবাহ কামাল ক্ষতিগ্রস্থ আদিবাসী পল্লী পরিদর্শন।
আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় কমিটির(ককাস) প্রতিনিধি দল ক্ষতিগ্রস্থ আদিবাসী পল্লী পরিদর্শন করেন। অদিবাসী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের ঘটনার বর্ননা শুনেন। নিরেপক্ষ বিচারের আশ্বাসদেন। কিন্তুু নিহতের পরিবারের বাড়ীতে না যাওয়ায় এলাকাবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শেষে আদিবাসী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের মাঝে কম্বল হাড়ি-পাতিলসহ বিভিন্ন মালামাল বিতরন করেন

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য