Russia's President Vladimir Putin and his Ukrainian counterpart Viktor Yanukovich attend a signing ceremony after a meeting of the Russian-Ukrainian Interstate Commission at the Kremlin in Moscowইউক্রেনে রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি সত্ত্বেও রাজধানীর কেন্দ্রস্থলের প্রধান স্কয়ারে এখনও হাজার হাজার বিক্ষোভকারী অবস্থান করছে। গত তিন দিনে ভয়াবহ সহিংসতায় প্রায় ১শ’ বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ভিক্তর ইয়ানুকোভিচ শুক্রবার একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। বিক্ষোভকারীরাও ওই চুক্তিতে রাজি হয়।
ভিক্তর ইয়ানুকোভিচ আগামী ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, একটি ঐকমত্যের সরকার গঠন এবং সহিংসতার সময় আটক বিক্ষোভকারীদের সাধারণ ক্ষমা সম্বলিত একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। তবে অনেকে চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তারা কেবল চান, ভিক্তর ইয়ানুকোভিচের পদত্যাগ। জনৈক বিক্ষোভকারী ওলেহ বুকোইয়েনকো (৩৪) বলেন, ‘ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠানই যথেষ্ট নয়। তাকে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় কিয়েভের প্রধান স্কয়ারে প্রায় ৪০ হাজার লোক সরকার বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয়। বার্তা সংস্থা এএফপি’র তথ্যানুযায়ী, হাজার হাজার লোক রাতেও সেখানে অবস্থান করছিলো। অন্যদিকে, ইউক্রেনের পার্লামেন্টে বিরোধীদের সমর্থিত একগুচ্ছ আইন পাস হয়েছে। তবে আইন কার্যকর করার জন্য প্রেসিডেন্টের সমর্থন প্রয়োজন রয়েছে।
নতুন আইন পাসের অন্যতম উদ্দেশ্য হল, বিরোধী নেতা যুলিয়া টিমোসেনকোকে মুক্ত করা।’ক্ষমতার অপব্যবহারের’ জন্য তার ৭ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। এছাড়া ভারপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ভিতালি জাখারচেনকোকে বরখাস্ত করতে প্রেসিডেন্টকে আহবান জানিয়ে একটি প্রস্তাবও পাস হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচের বরাত দিয়ে গণমাধ্যম জানায়, ১০ দিনের মধ্যে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ২০০৪ সালের সংবিধানে ফিরে যাওয়া ও আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্টের ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার কথা বলা হয়েছে সমঝোতা চুক্তিতে। নতুন ঐকমত্যের সরকার চাইলে গত নভেম্বরে ইয়ানুকোভিচের ইইউ বিরোধী সিদ্ধান্ত পাল্টে দিতে পারবে। গত নভেম্বরে ইইউ’র সাথে একটি বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের পর প্রেসিডেন্ট ভিক্তর ইয়ানুকোভিচের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। বিক্ষোভকারীরা ইয়ানুকোভিচের পদত্যাগ দাবি করে। পরে বিক্ষোভকারীদের দমাতে একটি আইন পাস করা হলে বিরোধীরা ফুঁসে ওঠেন। এরপর থেকে তারা কিয়েভের স্বাধীনতা স্কয়ার দখল করে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ চালিয়ে আসছিল। বিক্ষোভকারীদের ভাষায়, আইনে মৌলিক স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। ধীরে ধীরে ওই বিক্ষোভ সহিংসতায় রুপ নেয়।
গত তিন মাস ধরে সরকার বিরোধী বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থল কিয়েভের স্বাধীনতা স্কয়ার মঙ্গলবার রাতভর সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিক্ষোভকারীদের কিয়েভ ছাড়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা তাতে কর্ণপাত না করলে নির্ধারিত সময়ের পর পুলিশ অভিযানে নামে। পুলিশের পক্ষ থেকে একে ‘সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান’ নামদেয়া হয়। এরপর দুই দিনের সহিংসতায় কমপক্ষে ১শ’ লোক নিহত হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ইউক্রেনে এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা। এরপর ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর উপপ্রধান পদত্যাগ করেন। সার্বিক পরিস্থিতিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সমঝোতার চাপ বেড়ে যায় প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচের ওপর। এ প্রেক্ষিতে ইউরাপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যস্থতায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ও বিক্ষোভকারীরা গতকাল শুক্রবার সমঝোতা চুক্তি করতে সম্মত হন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য