আতিউর রহমান, বিরল (দিনাজপুর) ॥ শীত মানেই গ্রাম-গঞ্জে পিঠা-পুলি তৈরীর ধূম। আর এই নানা রকমের পিঠা পুলি তৈরী করতে মাটির তৈরী বাসন-কোসনের বিকল্প নেই বললেই চলে। কেননা যুগ যুগ ধরে রুটি, ভাপা পিঠা, চিতাই পিঠাসহ রকমারী পিঠা তৈরী করতে মাটির তৈরী পাতিল, ঢাকনা, তাওয়া ব্যবহার করে আসাছেন বাঙালী গৃহবধূরা। তাই শীতের আমেজের সাথে নানা রকমের মাটির জিনিস তৈরী করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিরল উপজেলার মৃৎ শিল্পীরা। প্রকাশ, উপজেলার পৌরশহরের হুসনা গ্রামের কড়াই বিল, ধামইর ইউপি’র কাশিডাঙ্গা ও বিজোড়া ইউপি’র শ্রীকৃষ্ণপুর ককইডাঙ্গার মৃৎ শিল্পীরা বংশপরম্পরায় মৃৎ শিল্পের সাথে যুক্ত। কিন্তু বর্তমান সময়ে প্লাষ্টিক ও ষ্টীল শিল্পের নানা রকমের ব্যবহার্য্য বাসন-কোসনের ভীড়ে মানুষ মাটির তৈরী বাসন-কোসন ব্যবহার এক প্রকার ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু শীতের রকমারী পিঠা তৈরী করতে আজও মাটির বাসন-কোসনের বিকল্প নেই। আর শীত কালেই রমরমা ব্যবসা চলে বলেই মৃৎ শিল্পীরা এ সময়টা ব্যস্ততার মধ্য েিয় কাটান। বছরের অন্যান্য সময়ে বাপ-দাদার এ পেশা ছেড়ে অনেকে কৃষি শ্রমিক, রিক্সা শ্রমিক কিংবা অন্য পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য হোন। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে শীতকাল বাদে বাকি সময় মৃৎ শিল্পীদের অন্য কোন পেশা বেছে না নিলে দু’বেলা খাবার যোগাড় করা দুঃস্বাধ্য হয়ে পড়ে। বিরলের মৃৎ শিল্পীরা মাটির তৈরী বাসন-কোসনের মধ্যে পাতিল, কড়াই, কলস, তাওয়া, পশুন, ঢাকনা, মাছ পরিষ্কারের বাসন, ডাল ডলার বাসন, ভাপা পিঠা তৈরীর ছিদ্রযুক্ত ঢাকনাসহ রকমারী বাসন-কোসন তৈরী করেন। এগুলো প্রস্তুত করতে যা শ্রম দিতে হয় সে অনুসারে মজুরী পান না মৃৎ শিল্পীরা। নিজেদের খাওয়া খরচ যোগাড় করে সন্তানদের লেখা-পড়ার খরচ চালাতে গিয়ে অনেক মৃৎ শিল্পীকে হিম শিম খেতে হচ্ছে বলে জানান শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামের একাধিক মৃৎ শিল্পী। সন্তানের লেখা-পড়া চালিয়ে যেতে এবং নিজেদের জীবন-মান উন্নয়নে মৃৎ শিল্পীদের পাশে আর্থিক সহায়তার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন উপজেলার মৃৎ শিল্পীরা।



 
 
 



 

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য