আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ বলেছেন, ‘আজ প্যারিস বিশ্বের রাজধানী।’ উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক বৈশ্বিক অবজ্ঞা প্রদর্শনের অংশ হিসেবে প্যারিসে হাজার হাজার মানুষের সমাবেশ উপলক্ষে রোববার তিনি একথা বলেন। ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘পুরো দেশ উগ্রবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।’ প্যারিসে তিনদিনের সন্ত্রাসী হামলায় ১৭ জন নিহত হওয়ার পর ফ্রান্সজুড়ে আয়োজিত একাত্মতা মিছিলগুলো জনসমুদ্রে রূপ নিয়েছিল। রোববারের এই আয়োজনে ফ্রান্সজুড়ে ৩৭ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমেছিল বলে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি।

দেশটির রাজধানী প্যারিসের মিছিলে ৪০টি দেশের নেতাসহ ১৬ লাখেরও বেশি মানুষ উপস্থিত ছিলেন। হাতে হাত ধরে তারা সব ধরনের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একাত্মতা প্রকাশ করেন। বুধবার প্যারিসে বিদ্রƒপ সাময়িকী শার্লে এবদু’র কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলায় আট সাংবাদিক ও দুই পুলিশসহ ১২ জন নিহত হন। এরপর বৃহস্পতিবার দক্ষিণ প্যারিসে অপর এক হামলায় এক নারী পুলিশ নিহত হন। পরদিন শুক্রবার শহরের একটি সুপারমার্কেটে চার জিম্মিকে হত্যা করে জঙ্গি সন্ত্রাসীরা। এসব হামলার প্রতিবাদেই বহু জাতির সব ধর্মের লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে এসে মানবতার জয়গান গেয়েছেন। এসব মিছিলে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ফরাসি সরকার। প্যারিসে বিশ্ব নেতাদের উপস্থিতিতে মিছিলের নেতৃত্ব দেন সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্বজনেরা। নগরীর রিপাবলিকান প্রসাদের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে প্যালেস ডে লা নেশনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
একই সময় ফ্রান্সের অন্য কয়েকটি শহরেও একাত্মতা মিছিল হয়। প্যারিসের মিছিলে উপস্থিত ১৬ লাখসহ সারাদেশে অন্ততপক্ষে ৩৭ লাখ মানুষ মিছিলে অংশগ্রহণ করেছেন বলে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ফ্রান্সের বাইরে লন্ডন, ওয়াশিংটন, মন্ট্রিল ও বার্লিনেও একাত্মতা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওইসব মিছিলেও হাজার হাজার মানুষ যোগ দিয়েছেন।

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে ২০০৪ সালে যে রেল স্টেশনে বোমা হামলায় ২০০ লোক নিহত হয়েছিল, সেখানে “আমাদের নামে না” লেখা ব্যানার নিয়ে কয়েকশত মুসলিম উপস্থিত হয়ে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
প্যারিসে বিশ্ব নেতাদের মধ্যে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস, মালির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম বৌবাকার কেইটা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড তুস্ক ও জর্ডানের বাদশা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ মিছিলের শুরু থেকেই উপস্থিত ছিলেন।
মিছিল শুরু হওয়ার আগে বিশ্ব নেতারাসহ সবাই নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। “আজ প্যারিস বিশ্বের রাজধানী হয়ে উঠেছে,” বলেছেন আবেগাপ্লুত ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাদ। নিরাপত্তাজনিত কারণে প্যারিসের মিছিলটিকে দুটি পথে বিভক্ত করে নেয়া হয়। মিছিলকারীদের অনেকেই ফ্রান্সের জাতীয় পতাকা বহন করছিলেন, সম্মিলিতভাবে ফ্রান্সের জাতীয় সংগীত গাওয়ার মধ্য দিয়ে মিছিলটি এগিয়ে যায়। এরপর “স্বাধীনতা”, “স্বাধীনতা”, ও “শার্লে”, “শার্লে” বলে শার্লে এবদু’র সমর্থনে স্লোগান তোলেন মিছিলকারীরা। বিশ্বনেতাদের উপস্থিতি ও ব্যাপক মানুষের নিরাপত্তায় প্যারিসজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। প্রায় ২,০০০ পুলিশ কর্মকর্তা ও ১,৩৫০ জন সেনা সদস্য সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন। মিছিল যাওয়ার পথ ধরে প্রতিটি ছাদে ছাদে সেনাবাহিনীর দক্ষ লক্ষ্যভেদীদের মোতায়েন করা হয়েছিল।

 



 



মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য