কয়লা আমদানী বন্ধ থাকায় ঠাকুরগাঁয়ের রানীশংকৈল উপজেলায় ইট ভাটার মালিকরা মহাবিপাকে পড়েছে। তাদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে। শ্রমিকরা বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অন্যদিকে ইট ভাটার কাঠখড়ি পোড়ানোতে রয়েছে সরকারি নিষেধাজ্ঞা। ফলে ইট ভাটার প্রায় তিন হাজার শ্রমিকের বেকার হয়েছে। জানা গেছে, রানীশংকৈল উপজেলায় প্রায় ১০-১২ টি ইট ভাটা রয়েছে। এদের মধ্যে যাদের জিকজ্যাক (হাওয়া) ভাটা রয়েছে তারাই মূলত পড়েছেন বিপাকে। কেননা এসব ইট ভাটায় কয়লা ছাড়া কাঠ পোড়ানো যায় না। ইট ভাটার মালিক সমিতির সভাপতি আহম্মেদ হোসেন বিপ্ল¬ব  জানান, মৌসুমের প্রথম থেকে ইট ভাটার ১২শ শ্রমিক কাজ করেন। ইট পোড়ানোর কাজ সম্পূর্ণভাবে না করতে পারলে শ্রমিকরা বেকার হয়ে যাবে। অন্যদিকে ইট ভাটার মালিকরা কাঁচা ইট তৈরি করে রাখলেও কয়লার আমদানি বন্ধ করে ইট পোড়ানো মনে হয় সম্ভব হবে না। ভাটার মালিক জানান, কাঁচা ইট প্রস্তুতের পূর্বেই ১৫-২০ লাখ টাকা অগ্রিম দিতে হয়। কয়লা আমদানি না হলে প্রতি ইট ভাটার মালিকদের প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতি গুনতে হবে। একটি সূত্রে জানা গেছে, মেঘালয় পাহাড়ে খনি থেকে অপরিকল্পিতভাবে কয়লা উত্তোলন করার কারনে ভারতে পরিবেশের মারাত্বক ক্ষতি সাধিত হয়েছে এমন অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করার কারনে কয়লা রপ্তানী বন্ধ রয়েছে ৮ মাস যাবত। এছাড়া গত বছরে যে কয়লা প্রতি টনে ৭ হাজার ৫শ টাকা দামে ক্রয় করা হতো সঙ্কটের কারনে এই কয়লা ২১-২২ হাজার টাকা দামে ক্রয় করতে হচ্ছে, তাও আবার পাওয়া যায় না। ইট তৈরির জন্য এখন চলছে বৃক্ষ নিধনের মহোৎসব। এতে বিরুপ প্রভাব পরবে পরিবেশের উপর। ইট ভাটার মালিকরা জানান, এ বছর ইটের দাম বৃদ্ধির মূল কারন কয়লা না পাওয়া। ইট ভাটা মালিক সমিতির  সম্পাদক মাহি ব্রিক্স ভাটার মালিক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উত্তরবঙ্গের বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে রানীশংকৈল উপজেলার সব ভাটা মালিক আবেদন করেও কয়লা পাচ্ছে না। কিন্তু লোকাল ব্যবসায়ি ও দালালদের নিকট হতে আমাদেরকে ১২ হাজার টাকার কয়লা ২২হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করতে হয়। আপরদিকে আঃ রশিদের ভাটায় গিয়ে দেখা যায়, আসময়ে বৃষ্ঠি হওয়ার কারনে লক্ষ লক্ষ কাঁচা ইট নষ্ঠ হয়ে গেছে। ফলে ইট ভাটায় লাভের চেয়ে লোকসানের সম্ভবনাই বেশি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য