আবু ছাইদ, ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ- নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলা ১০টি ইউনিয়নে এবার ব্যপক ভূট্টার চাষ হবে বলে জানা গেছে। এমনকি ব্যপক ফলন হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। কয়েক বছর ধরে আলু ও ইরি এবং বোরো ধানের দাম কম হওয়ায় এবং কৃষকগন লোকসানের ভাগ গুনতে গুনতে ২/৩ বছর ধরে নতুন ফসল ভূট্টার দিকে মননিবেশ করেছেন। ভূট্টার পুরোপুরি চাষাবাদের আগে মাঝে মাঝে গ্রামে ২/১ বিঘা জমিতে চাষ হত কিন্তু সেই ভুট্টা চাষ এখন গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ছড়িয়ে গেছে। শত শত বিঘা জমিতে শুধু এখন দেখা যায় ভূট্টার চাষ। নীলফামারী জেলার উত্তর অঞ্চল অত্র উপজেলার চারিদিক এলাকাগুলো উচু এবং সে সব জমিতে বালুর ভাগ বেশী এই সব এলাকা আগে পতিত জমি হিসবে পরে ছিল। কিন্তু ভূট্টার চাষে কৃষক আগ্রহী হওয়ার ফলে পতিত জমি ঝোপ, জঙ্গল, উঁচু টিলা সহ বিভিন্ন জায়গা কৃষকরা কম খরচে বেশী মুনাফার আসংখ্যায় ভূট্টা চাষে বেশী মনোযোগী ও আগ্রহী হয়েছে। ভুট্টা চাষে ২/৩ বার শেচ দিতে হয় ৯৫ থেকে ১২০ দিনে ভূট্টা হয়ে থাকে এবং তা গুদাম জাত করা যায়। যা একর প্রতি ১০০ থেকে ১২০ মন পর্যন্ত ভূট্টার ফলন হয়। সার তেমন লাগেনা। বিঘা প্রতি সার ও অন্যান্য খরচ সহ সব মিলিয়ে দাড়ায় প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকার মত। কোন কোন জমিতে এ খরচ আরো কমিয়ে ৫ হাজার টাকার মত দাড়ায়। ফাল্গুন মাস থেকে ভূট্টা বপন করতে হয়। এখন দেখা যাচ্ছে কোন কোন কৃষক পৌষ মাঘ মাসে ভূট্টা বপন করেছেন। তবে সাধারণত ফাল্গুন মাসে এটা বপন করলে ডিপযোগী অবহাওয়া পাওয়া যায় এবং ফলনও ভালো হয়। ভূট্টার বীজ আমাদেশে থেকে তৈয়ার হয় না, ভারত, চীন, থাইল্যান্ড ও পাকিস্তান থেকে নানা প্রজাতির বীজ এনে বেভিন্ন কোম্পানী প্যাকেট জাত করে বাজারে চড়া মূল্যে বিক্রি করে ২৫০ টাকা ১ প্যকেট (এক কেজি) থেকে শুরু করে ৬০০ টাকা পর্যন্ত কেজি বীজ বাজারে পাওয়া যায়। ভূট্টা মানুষের খাদ্য ছাড়া গরুর খাদ্য মাছের খাদ্য বেশি করে ব্যবহৃত হচ্ছে তাছাড়া ভূট্টার খসা দিয়ে গরুর খাদ্য তৈরী হচ্ছে। ভূট্টাতে প্রচুর ভিটামিন রয়েছে, গ্রামে এখন মানুষ গমের সঙ্গে ভূট্টা মিসিয়ে আটা তৈরী করে খাচ্ছে তাতে  খাইতেও সুস্বাদু আর ভিটামিন রয়েছে প্রচুর। ভুট্টা চাষে বেশী মুনাফার কারণে কৃষক ভূট্টা চাষে বেশি আগ্রহী হচ্ছে এবং দিনদিন এর চাষ ব্যপক থেকে ব্যপকতম হচ্ছে বলে কৃষি বিভাগ ও কৃষকরা জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য