আবু ছাইদ, ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ উত্তররাঞ্চলের নীলফামারী, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার কয়েক লক্ষ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার চিলাহাটি হইতে ভারতের হলদিবাড়ি পর্যন্ত আন্তর্জাতীক রেলপথ পুনঃস্থাপন এবং চিলাহাটি আন্তর্জাতীক ইমিগ্রেশন চেক পোষ্ট পুনরায় চালু অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী এবং এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, ১৯৫৬ সালে পাক ভারত যুদ্ধের পূর্ব পর্যন্ত কলকাতা-দর্শনা-চিলাহাটি রুটে ট্রেন চলাচল করত। এই ট্রেনটি চিলাহাটি হয়ে ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার হলদিবাড়ি পর্যন্ত চালু ছিল। তাছাড়া এই পথে উভয় দেশের লোকজনও পাসপোর্ট ভিসার মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশ যাতায়ত করত। ১৯৫৬ সালের পর সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলের রেলপথ তুলে ফেলা হয়। বর্তমানে সীমান্তের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত দুই দেশেরই রেলপথ ও সড়ক পথ রয়েছে। কিন্তু দেশ স্বাধীনের পর থেকে তা বন্ধ রয়েছে। শুধু চিলাহাটি চেকপোষ্ট চালু থাকার সময় প্রতিদিন এই পথে ভারত ও বাংলাদেশের শত শত যাত্রী পাসপোর্ট এর মাধ্যমে বৈধভাবে দুইদেশে যাওয়া আসা করত। এর মুল কারণ ছিল চিলাহাটি থেকে ভারতের হলদিবাড়ি গেলেই খুব সহজেই জলপাইগুড়ি, কুচবিহার, দার্জিলিং, নেপাল, ভুটান সহ ভারতে বিভিন্ন স্থানে যাওয়া যায়। কিন্তুু উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে ২০০২ ইং সালে চিলাহাটি চেক পোষ্টটি বন্ধ করে দিয়ে কার্যক্রম গুটিয়ে ফেলা হয়। জানা গেছে, চিলাহাটি ও হলদিবাড়ির মধ্যে ১১.৩৪ কিলোমিটার রেলপথ পুনঃস্থাপনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সীমানায় ৮.১০ কিলোমিটার । এই রেলপথ পূনঃস্থাপিত হলে শুধু যাত্রীদেরই দূর্ভোগ লাঘব হবেনা বরং এই পথে বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা কম খরচে ও কম সময়ে মালামাল আমদানী ও রফতানী করতে পারবে। ফলে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রচুর মুনাফা লাভ করবে বলে স্থানিয় সচেতন মহলের ধারনা। অপরদিকে প্রায় তিন বছর পুর্ব হইতে সৈয়দপুর থেকে চিলাহাটি পর্যন্ত রেলপথ ও বেশ কয়েকটি রেল ষ্টেশন নতুন আঙ্গিকে নির্মানের কাজ প্রায় শেষের পথে। অথচ উত্তর অঞ্চলের হাজার হাজার ব্যবসায়িদের দীর্ঘ দিনের আন্দোলনের পরেও আজ পর্যন্ত চিলাহাটি স্থল বন্দর বাস্তবায়নের ফাইলটি লাল ফিতায় বাধা রয়েছে। এ ব্যপারে বিভিন্ন ব্যবসায়ি সংগঠন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন চিলাহাটি স্থলবন্দর বাস্তবায়নের জন্য আবারও যদি আন্দোলন করতে হয় তবে করব বলে জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য