পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধে একজন নিহতের ঘটনায় সরজমিনে পুলিশি তদন্ত চায় এলাকাবাসী। সরজমিনে তদন্ত ছাড়াই বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন পেশ করায় এলাকার নিরপরাধ লোকজন কারাবাস ও হয়রানির শিকার হয়ে আসছেন এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। জানা গেছে, গত ১০ডিসেম্বর/১১ সালে উত্তর প্রধানপাড়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে মো: মহিবুল ইসলাম ওরফে নেন্দ(৩৫)গুরুতর আহত হয়। ঘটনার দু’দিন পর রংপুর মেডিক্যালে মারা যায় মবিউল। এ ঘটনায় মোট ৮জনকে আসামী করে পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা দায়ের করেন মৃতের বড়ভাই মুক্তিযোদ্ধা আ: রশিদ। চুড়ান্ত চার্জশিট প্রদানের পূর্বে মামলার এজাহার ভূক্ত ৪নং আসামী মো: আহসান হাবীব বিপ্লব কৌশলে নাম কেটে নেয়। পরবর্তিতে এলাকাবাসী জনপ্রতিনিধিসহ উভয়পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে মামলা আপোসের সিদ্ধান্ত নেন। একপর্যায়ে মৃতের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতার প্রেক্ষিতে নোটারী পাবলিক পঞ্চগড় কর্তৃক এ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে মামলার আপোস করা হয়। কিন্তু আপোসের ৩বছর পেড়িয়ে গেলেও মামলার ১নং আসামী জেলহাজত থেকে জামিনে মুক্তি পায়নি। সরজমিনে, মামলার ৫নং আসামী মো: আলমগীর প্রধান জাপান জানায়, আলু ক্ষেতে কাজ করার সময় দূর থেকে দেখতে পেয়েছি, পরে আমাকে মামলার আসামী করা হয়েছে বলে জেনেছি। মামলার ২নং আসামীর স্ত্রী আকতারা বেগম জানায়, ‘এই হত্যাকান্ড একই এলাকার মৃত. জহিরুল ইসলামের ছেলে মো: ওয়াজেদ আলী ঘটিয়েছে। অথচ মামলায় আসামীর তালিকায় তার নাম নেই। পুলিশও ঘটনাস্থলে তদন্ত না করেই চার্জশীট প্রদান করেছেন।’ উত্তর প্রধানপাড়া এলাকার আলহাজ্ব হাকিকুল আলমের ছেলে জাহাঙ্গির কবির বাদল ও মৃত. হাফিজুল ইসলামের ছেলে মো: আফজাল হোসেনসহ একাধিক গ্রামবাসী জানায়, ‘মবিউল ওরফে নেন্দ হত্যা মামলার পর পুলিশ এই এলাকায় তদন্ত করতে আসেননি। তদন্তে এলে হত্যার প্রকৃত রহস্য জানতে পারবে পুলিশ।’ স্থানীয় ইউপি সদস্য আ: রহমান বলেন, ‘লোকমূখে শুনেছি হত্যা ঘটনায় হুকুমদাতা ও আঘাতকারী দু’জনেরই নাম আসামীর তালিকায় নাই। মবিউল হত্যা মামলার বিষয়টি এ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে আপোস হয়েছে।’ মামলার ১নং আসামী মোবারক হোসেনের স্ত্রী রশিদা বেগম জানায়, বিনা দোষে আমার স্বামী দীর্ঘ ৪মাস যাবত জেলহাজতে রয়েছে। আমি এই মামলার সরজমিনে তদন্ত পূর্বক বিচার চাই। মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা আ: রশিদ ও মামলার অব্যাহতিপ্রাপ্ত আসামী আহসান হাবীব বিপ্লব এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজী হননি। এ ব্যাপারে মামলার আইও এসআই মো: হুমায়ুন জানান, এই মামলায় আমি প্রতিবেদন জমা দিয়েছি, তাদেরকে আদালতে নারাজী দিতে বলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য