আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৯শ’র মধ্যে অধিক সংখ্যক বরজে পান চাষের আড়ালে গাঁজা চাষের প্রবনতা দিন দিন বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পান চাষীরা বাড়তি ফায়দার লোভে গাঁজা চাষে ঝুঁকে পড়ছে। প্রশাসনিক কোন প্রতিবন্ধকতা ও হস্তক্ষেপ ছাড়াই পানবরজে বছরের পর বছর ধরে গাঁজা চাষ অপ্রতিরোধ্য হয়ে পড়েছে। এসব ছোট-বড় পানবরজে আনুমানিক ৩ হাজার গাঁজা গাছ নিরবে-নিভৃতে দিনের পর দিন বেড়ে উঠে পরিপক্ক হচ্ছে। এক পান চাষী অপর পান চাষীর প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানায় খবর দেয়। তখনই শুধু অভিযান পরিচালনা করা হয়। এছাড়া দীর্ঘদিন পর মাঝে-মধ্যে চিহিৃত পান বরজে পুলিশি অভিযান চালানো হয়। সারা বছরই অধিকাংশ পানবরজ থেকে যায় লোকচক্ষুর অন্তরালে-ধরাছোঁয়ার বাইরে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের উদাসিনতায় বাধাহীন ব্যাপক গাঁজা চাষের ফলে সচেতন উদ্বীগ্ন মহল সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বাস্তবমুখী প্রতিকারের দাবী জানিয়েছেন। উপজেলা কৃষি বিভাগ ও সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার ৯ ইউনিয়নে পৃথক ২৯টি কৃষি ব্লক রয়েছে। এসব কৃষি ব্লকে অধীনে গ্রাম সমূহের ফসলি জমিতে সারা বছরই ধান-পাট, গম-ভূট্টা, সরিষা-আলু, বেগুন ও পটলসহ অন্যান্য রবিশস্য ছাড়াও বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করা হয়। চাষযোগ্য জমির ভৌগলিক অবস্থান ও শ্রেণী বিন্যাসে পান চাষে উপযোগী কৃষি জমিতে পানের বরজ স্থাপনে পিছিয়ে নেই এ উপজেলার পান চাষীরা। এসব পান বরজের প্রায় ৭৫ শতাংশ পান চাষী অবৈধ পন্থায় স্বল্প সময়ে অধিক অর্থ লাভের আশায় বছরের পর বছর চুপি-চুপি পান বরজে একই সাথে একাধিক গাঁজা গাছের চাষ করছে। প্রত্যন্ত পল্লী বিভিন্ন গ্রাম-পাড়া, মহল্লায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পানবরজ সমূহ সারা বছরই থেকে যায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের অভিযান মুক্ত। কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, উপজেলার অন্তত ১৫টি কৃষি ব্লকে এসব পানবরজের অবস্থান। উপজেলা সদরের শহরতলী ছাড়াও প্রত্যন্ত পল্লীতে প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে ছোট-বড় প্রায় ৯’শ ২০টি পান বরজের অবস্থান। তন্মধ্যে মহেশপুর কৃষি ব্লকে ১’শ ৮৯ পানবরজ, গিরিধারীপুরে ১৯, হোসেনপুরে ১৫, দৌলতপুরে ১শ’ ৯১, সাইনদহে ৭৮, রামকৃষ্ণপুরে ৩৪, ফলিয়ায় ১’শ ২৪, রামপুরে ১’শ ১৭, আমলাগাছীতে ৪৫, বাসুদেবপুরে ৩৮, দয়ারপাড়ায় ৩১, খামার  নড়াইলে ১৪, মনোহরপুরে ৯, পবনাপুরে ১০ এবং হরিনাথপুর কৃষি ব্লকে ৬টিসহ ৯’শ ২০টি পানবরজ রয়েছে। উক্ত কৃষি ব্লকের অধীনে পানবরজ অধ্যুষিত গ্রাম গুলো হচ্ছে, বেতকাপা, রাঙ্গামাটি, আসমতপুর, বাড়ইপাড়া, উদয়সাগর, সুইগ্রাম, মহদীপুর, দিঘলকান্দি, কাতুলি, কালুগাড়ী, জগরজানি, হিজলগাড়ি, সিধনগ্রাম, হরিণমারী, বৈরী হরিণমারী, অভিরামপুর, আটঘরিয়া, আন্দুয়া, শিমুলিয়া, গোয়ালপাড়া, বেংগুলিয়া, শ্রীখন্ডি, গোপালপুর, টেংরা, শালমারা ও দেবত্তর কলাগাছী। পানেরবরজে গাঁজা চাষ প্রতিরোধে থানা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন একেবারেই নিরব-উদাসিন। শুধুমাত্র গোপন খবরের ভিত্তিতে গাঁচা গাছ আছে এমন পানবরজে অভিযান চালানো হয়। গত এক বছরে এ ধরনের কোন অভিযান পরিলক্ষিত হয়নি। তবে গত ১৯ নভেম্বর গোপন সূত্রে খবর পেয়ে উপজেলা সদরের কালুগাড়ী গ্রামের মৃত আজগার আলীর পুত্র শাহজাহানের (৪০) মালিকানাধীন পানবরজে পুলিশ অভিযান চালায়। এসময় প্রায় ৪০ কেজি ওজনের আনুমানিক ১ লাখ টাকা মূল্যের ৮/৯ ফুট লম্বা বড় আকাড়ের কাঁচা ‘ক্যানবিস’ জাতীয় ৩টি গাঁজা গাছ কেটে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় পুলিশের আগমন টের পেয়ে বরজ মালিক পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এ ব্যাপারে এসআই আবু মুসা বাদী হয়ে ৯জনকে আসামী করে (ধারা ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধনী/০৪) এর ১৯(১) টেবিলের ৮ (ক)) থানায় মামলা (নং-১১) রুজু করেছেন। কর্তনকৃত গাঁজা গাছ রোপন, রক্ষণা-বেক্ষণ ও পরিচর্যা করার অপরাধে দায়েরকৃত মামলার আসামীরা হচ্ছেন, উপজেলা সদরের কালুগাড়ী গ্রামের মৃত আজগর আলীর পুত্র শাহজাহান (৪০), মিঠু মিয়া (৩৬) ও ফিরোজ মিয়া (২৫), একই গ্রামের মৃত বেলায়েত উদ্দিনের পুত্র বাবর মিয়া (৩৫), নওশা মিয়ার পুত্র মাহফুজ রহমান ওরফে মাহফিজ (২৫), আব্দুর রশিদের পুত্র হাবিব (২৩), ময়নুল হোসেনের পুত্র রঞ্জু মিয়া (৪০), জগরজানি গ্রামের মৃত আছর উদ্দিন মেম্বরের পুত্র শাহ আলম (৪৮) ও মকবুল হোসেনর পুত্র স্বপন মিয়া (২৪)। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ এদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। মামলার তদন্তকারী এসআই হাবিব-উল-বাহার আসামীদের গ্রেফতারে জোর পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য