রতন সিং, দিনাজপুর থেকে ॥ সরকারী উকিলের অবহেলা ও উপযুক্ত সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপনে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত কর্তৃক খালাসপ্রাপ্ত শীর্ষ ২২ জঙ্গীকে আবারো গ্রেফতারের চেষ্টা করে বার বার ব্যর্থ হচ্ছে পুলিশ। তাদের খুজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযানকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

২০০২ সালের ২০ মে রাতে জেলার পার্বতীপুর উপজেলার জাহানাবাদ এলাকার পাশে মাঠ থেকে জঙ্গীদের মহড়া দেয়ার সময় ৮ জেএমবি সদস্যকে অস্ত্র, হাত বোমা ও ককটেলসহ গ্রেফতার করা হয়। ওই ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে বিচার শেষে দিনাজপুরের স্পেশাল জজ আদালত থেকে সকলকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। ওই মামলার বিচারক তিনি তার রায় প্রদানে উল্লেখ করেন আসামীদের নিকট থেকে উদ্ধারকৃত অস্ত্র, বোমা ও অন্যান্য আলামত আদালতে পুলিশ উপস্থাপন করতে না পারায় এবং মামলা প্রমানে সাক্ষ্য না দেয়ায় আসামীদের খালাস দেয়া হয়। উল্লেখ করা হয় পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে পার্বতীপুর থানার মালখানায় বিদ্যুৎ শর্টসাকিটে অগ্নিসংযোগে পুড়ে যাওয়ায় আলামতগুলো ভুষ্মিভুত হয়েছে।

২০০৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী দিনাজপুর শহরের কালুর মোড় নামকস্থানে একটি ছাত্রাবাসে বোমা বিস্ফোরণে ৩ জন জেএমবি সদস্য আহত হলে অস্ত্র ও বোমাসহ পুলিশ তাদের আটক করে। পরবর্তীতে ১ জন জঙ্গী সদস্য বাদল (২৮) ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। মামলার অন্যান্য জঙ্গী সদস্যরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে দিনাজপুরের স্পেশাল জজ আদালতে বিচারে ৩ জেএমবি সদস্য আনোয়ার শাহাদত (৩০), সাইদুর রহমান (৩২) ও হাবিবুর রহমান (২৮)কে যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়। অপর ৯ জঙ্গী সদস্যকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

২০০৫ সালে ১৭ আগষ্ট সারাদেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলায় দিনাজপুরে ৮ জেএমবি সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ওই মামলার বিচারে দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত ৩ এর বিচারক আটক ৭ জনকে বেকসুর খালাস দেন। একমাত্র পলাতক আসামী শহরের ক্ষেত্রিপাড়ার মৃত জয়নাল আবেদিন মদনের পুত্র আফজাল আবেদিনকে ১০ বছর সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। আদালত থেকে কারাদন্ড প্রদান করা হলে আড়াই বছরেও আফজাল আবেদিনকে পুলিশ এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি। এসব জঙ্গী সদস্যের মধ্যে ৩ জন জেল হাজতে আটক থাকলেও ২২ জন আদালতের বিচারে খালাস পেয়েছে। খালাসপ্রাপ্ত ২২ জন জঙ্গীকে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পুনরায় গ্রেফতার করার নির্দেশ দেয়া হলেও পুলিশ তাদের খুজে পাচ্ছে না বলে জানা গেছে।

পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানান, নাশকতা ও রাষ্ট্রীয় ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডের সাথে যারা জড়িত তাদেরকে গ্রেফতার করতে প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। রোববার দিনাজপুর জেলা পুলিশ প্রশাসনের মাসিক সভায় পালিয়ে থাকা শীর্ষ ২২ জঙ্গীকে আবারো গ্রেফতারের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। অভিযানকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, অনেক চেষ্টা করেও তাদের খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে দিনাজপুর ছেড়ে তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য