দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে দিনদিন বাল্যবিবাহের সংখ্যা বাড়ছে। উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, এসইউপিকে ও বহুব্রীহি সংস্থা প্রতিমাসে ২/১টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করলেও পুরোপুরি বাল্যবিবাহ বন্ধ হচ্ছে না। এক্ষেত্রে অভিভাবকরা ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। তারা বিয়ে রেজিস্ট্রি না করেই বিনা রেজিস্ট্রিতে তাদের মেয়ের বিয়ে দিচ্ছেন।

উপজেলার আব্দুলপুর ইউনিয়নের জনৈক ইউপি সদস্যের সহযোগিতায় অনেক অভিভাবক ৫/৬শত টাকা উৎকোচের বিনিময়ে জন্মনিবন্ধন রেজিস্ট্রার সংশোধনের মাধ্যমে জন্ম তারিখ বাড়িয়ে নিচ্ছেন। এছাড়াও অনেক অভিভাবক ইউপি কার্যালয় হতে হালনাগাদ জন্মনিবন্ধন সনদ কার্ড নিয়ে কম্পিউটাওে স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে কার্ডের সাল পরিবর্তন করে হুবহু কার্ড করে নিচ্ছে। একই ধরনের কাগজ হওয়ায় কাজিরা দ্বিনকল বুঝতে না পেরে বিয়ে রেজিস্ট্রি করে দিচ্ছেন। গত একমাসে আব্দুলপুর ইউনিয়নে ১১টি বাল্যবিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

রসুলপুর গ্রামের শাহাজানের মেয়ে ৮ম শ্রেণির ছাত্রী সারমিন আরা, পবিত্র চন্দ্র রায়ের মেয়ে ৮ম শ্রেণির ছাত্রী পপি রায়, মাহাতাবউদ্দিনের মেয়ে ৯ম শ্রেণির ছাত্রী মাহফুজা খাতুন, আজাহারের মেয়ে ৭ম শ্রেণির ছাত্রী আরমিনা, মামুদপুর গ্রামের গল্ডোবপাড়ার আমিনুল ইসলামের মেয়ে ৮ম শ্রেণির ছাত্রী মৌসুমী আরা, মুন্সিপাড়ার আমিনুল হকের মেয়ে ৯ম শ্রেণির ছাত্রী উম্মে কুলসুম, আব্দুুলপুর গ্রামের হাজিপাড়ার মজিদের মেয়ে ৯ম শ্রেণির ছাত্রী মতিয়া খাতুন, নান্দেড়াই গ্রামের বেলতলীবাজারের মহুবুবার রহমানের মেয়ে ৮ম শ্রেণির ছাত্রী শিল্পী আরা, ভজুপাড়ার মমিনুলের মেয়ে ৮ম শ্রেণির ছাত্রী সুমনা আকতার, বাজে দিঘারণ গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে ৯ম শ্রেণির ছাত্রী শামিমা আকতার টুম্পার বিয়ে হয়।

এছাড়াও আরো ৭টি বাল্যবিবাহের সংবাদ পাওয়া গেছে। বেলতলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোরশেদ উল আলম, ৯ম শ্রেণির প্রতিবাদি ছাত্রী মোসলেমা, শাহিনা ও ৮ম শ্রেণির ছাত্রী তৌহিদা বুলবুল মৌরী বাল্যবিবাহ বন্ধের অনেক চেষ্টা করলেও দায়িত্বশীল কর্তা ব্যক্তিদের সহযোগিতার অভাবে তা সম্ভব হয়নি। এনিয়ে সচেতন এলাকাবাসী জরুরীভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য