আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নারীশিক্ষা আন্দোলন কর্মী মালালা ইউসুফজাই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করেছেন। বুধবার নরওয়ের রাজধানী ওসলোতে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করতে যাচ্ছেন তালেবানের হামলায় মৃত্যুর দরজা থেকে ফিরে আসা মালালা। পুরস্কার গ্রহণের আগে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজ্বের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। যুক্তরাজ্যে পড়ালেখা সম্পূর্ণ করার পর পাকিস্তানে ফিরে রাজনৈত্বিক ক্যারিয়ার গড়তে চান তিনি। এভাবে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়ে রাজনীতির শীর্ষস্থানে পৌঁছে যেতেও পারেন বলে জানিয়েছেন। ভারতের শিশু অধিকার আন্দোলনকর্মী কৈলাস সত্যাথির্র সঙ্গে যৌথভাবে চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয় মালালাকে। মেয়েদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে প্রচাস্মরণা চালানোর কারণে ২০১২ সালের অক্টোবরে মালালাকে গুলি করেছিল তালেবান বন্দুকধারীরা। মাথায় মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত মালালাকে পাকিস্তানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর যুক্তরাজ্যে নিয়ে নিবিড় চিকিৎসার মাধ্যমে বাঁচিয়ে তোলা হয়। নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীদের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ। ওসলোতে বিবিসির ‘হার্ডটক’ অনুষ্ঠানের সঞ্চালক স্টেফেন সাকুরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মালালা বলেছেন, ‘আমি আমার দেশের সেবা করতে চাই। আমাদের দেশ একদিন উন্নত রাষ্ট্র হবে এই আমার স্বপ্ন। শেখানে সব শিশু শিক্ষা পাবে এই আমার আঁশা।” চলতি বছর শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই ও কৈলাস সত্যাথি চলতি বছর শান্তিতে নোবেলজয়ী। পাকিস্তানের নিহত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজ্বির ভুট্টো তার অনুপ্রেস্মরণা বলে জানিয়েছেন মালালা। ২০০৭ সালে খুন হওয়ার আগে দুই মেয়াদে পাকিস্তানের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বেনজ্বির। ‘আমি যদি আমার দেশকে রাজনীতির মাধ্যমে এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মাধ্যমে সেবা করতে পারি, তা হলে আমি অবশ্যই এই পথটি বেছে নেব, ’ বলেন তিনি। কৈলাস সত্যাথির্র সঙ্গে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পাওয়া তার জন্য বড় ধরনের সম্মানের বিষয় বলে জানিয়েছেন ১৭ বছর বয়সী কিশোড়ি মালালা। তিনি বলেন, ‘সব শিশু স্কুলে যাচ্ছে, শুরু থেকেই এই আঁশা পোষণ করে আসছি আমি, এরজন্য প্রচাস্মরণাও শুরু করেছিলাম, ’ বলেন তিনি। ‘এখন এই শান্তি পুরস্কারটি আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, এতে সত্যিকারভাবে আমি আরো আঁশাবাদী হয়ে উঠেছি, আরো সাহসী হয়েছি, আগের চেয়ে নিজেকে আরো বলবান মনে হচ্ছে, কাস্মরণ এখন আমার সঙ্গে অনেক মানুষ আছে দেখতে পাচ্ছি।’ এত আঁশাবাদের মধ্যেও একটি কারণে মালালার মন খারাপ, তা হল তাদের পুরস্কার বিত্বস্মরণী অনুষ্ঠানে পাকিস্তান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য