মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর ॥ দিনাজপুর শহরে বৈধ সম্পত্তি জবর দখলের ষড়যন্ত্রের প্রতিকার ও ভূমি দস্যুদের অপতৎরতা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন মাহবুব আলম ননী। বুধবার দুপুরে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবী করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মাহবুব আলম ননীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোঃ খাদেমুল ইসলাম। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দিনাজপুর পৌরসভার অধীন এনএ মার্কেটের দোতলা ঘর নং ১৩৪ এবং হোল্ডিং নং ১৩১২/ ১২১৪ আমার ক্রয়কৃত এবং সেই সাথে জেলা প্রশাসক কার্যালয় হতে লীজ নেয়া। উক্ত ঘরটি আমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগ দখল ও সেখানে আমার টেইলারিং দোকান চালু করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলাম।

গত ০২-০৬-২০০৩ তারিখে জাতীয় পার্টি দিনাজপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক চৌধুরী নবাব উক্ত দোকান ঘরটি তার ভাড়াটিয়া দাবী করে সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মোকদ্দমা আনয়ন করেন। যার নং ৬৯/ ২০০৩ অন্য। মামলায় বিবাদী করা হয়, মনোরঞ্জন শীল গোপাল, পিতা দীনেশ চন্দ্র শীল, রফিক উদ্দীন চৌধুরী মুন্না পিতা মৃত-একিন উদ্দীন চৌধুরী এবং আমি মাবুবব আলম ননী, পিতা মৃত আব্দুর রহিমকে। আনোয়ারুল হক চৌধুরীর মামলার আর্জিতে বলা হয়, উক্ত জমি তিনি কবলা সূত্রে মালিক ফয়েজ উদ্দীন আহমেদের নিকট হতে ক্রয় করে ভোগ দখল করে আসছেন। ফয়েজ উদ্দীন আহমেদ উক্ত জমি তার পূর্বাধিকারী মালিকদের কাছ হতে ৩০-১২-৯১ তারিখে ক্রয় করেছেন।

কিন্তু উক্ত জমির প্রকৃত মালিক ছিলেন জান মোহাম্মদ নামে একজন অবাঙ্গালী। তিনি ১৯৭৬ সালে মারা যান। ফয়েজ উদ্দীন ঐ সম্পত্তি গ্রাস করার উদ্দেশ্যে একটি কবলা প্রস্তুত করে তার দ্বারা আনোয়ারুল হক চৌধুরীকে দিয়ে উপরোক্ত মামলা আনয়ন করেন। বাদী উক্ত মোকদ্দমা করার স্বার্থে এক বছর আগে একটি এগ্রিমেন্ট প্রস্তুত করেন। যা মিথ্যা এবং বে-আইনী।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির অফিস হিসাবে সাইনবোর্ড টানানোর আগে তিনি কোনদিনই উক্ত দোকান ঘরে পদার্পণ করেননি। দোকান ঘরে বাদীর কোন আসবাবপত্র নেই। দোকান ঘরে টানানো দৈনিক পত্রালাপের সাইনবোর্ডটি ১ নং বিবাদীর টানানো তার পত্রিকার সাইনবোর্ড। আমি ৩ নং বিবাদী মাহবুব আলম ননী উক্ত দোকান ঘরটি প্রকৃত মালিক জান মোহাম্মদের সাথে ভাড়াটিয়া হিসাবে ১৪-০৪-৭৬ তারিখে একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হই। পরবর্তীতে এডভোকেট আবু আলী চৌধুরী উক্ত সম্পত্তির ভাড়াটিয়া দাবী করে আদালতে আমার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারী মামলা করেন।

ঐ মামলায় আবু আলী চৌধুরী বিফল হন। ভাড়াটিয়া হিসাবে প্রমান করতে পারেননি। পরবর্তীতে আবু আলী চৌধুরী আমার বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় আরেকটি মোকদ্দমা করেন। এই মামলাতেও আমি দায়মুক্ত হই। পরবর্তীতে আমার কাছ হতে উক্ত সম্পত্তির একাংশ ভাড়া নিয়ে মনোরঞ্জন শীল গোপাল, রফিক উদ্দীন চৌধুরী মুন্না সেখানে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির কার্যালয় খুলেন। এ সময়ে আমি জাগপার শ্রমিক সংগঠন জেলা মজদুর লীগের সহ-সভাপতি ছিলাম।

২০০৪ সালের মধ্যভাগে জাগপা বিলুপ্ত হয়ে এইচ এম এরশাদের জাতীয় পার্টির সাথে অঙ্গীভূত হয়। দোকান ঘরটিতে জাগপার সাইনবোর্ড অপসারিত করে সেখানে জাতীয় পার্টির সাইনবোর্ড উত্তোলন করা হয়। উক্ত দোকান ঘরটি তার ক্রয়কৃত দাবী করে জাতীয় পার্টি দিনাজপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক চৌধুরী নবাব সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ০২-০৬-০৩ তারিখে একটি মোকদ্দমা আনয়ন করেন। কিন্তু মামলা করার পর বাদী আনোয়ারুল হক চৌধুরী অবস্থা বেগতিক দেখে মামলা প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করেন। মামলা তুলে নেবার খরচা বাবদ তিনি ১ হাজার টাকা ফি ক্যাশ রশিদ মূলে আদালতে জমা দেন। আদালত সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে গত ২৯-০৩-০৭ তারিখে তার প্রার্থণা মঞ্জুর করে আদেশ প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৮-নভেম্বর তারিখ আনুমানিক বিকেল ৩টার দিকে আমার ১৩৪ নং বিল্ডিংয়ের সাইনবোর্ড কতিপয় সন্ত্রাসীরা খুলে নিয়ে যায়। সেই থেকে আমি আমার দোকান নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং আমার পরিবারও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আমাকে বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে প্রান নাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে মাহবুব আলম ননী বৈধ সম্পত্তি জবর দখলের ষড়যন্ত্রের প্রতিকার ও ভূমি দস্যুদের অপতৎরতা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযেগিতা কামনা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে মাহবুব আলম ননীর ভাতিজা মোঃ শামিম ইসলাম, মোঃ মানিক হোসেন, মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম, মোঃ আনারুলসহ অন্যান্যরা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য