অন্য অনেক ধর্ষিতার মতো নিজ্বের জীবন বিসর্জন দেননি ‘প্রিয়া’, বরঙ দেবী পার্বতীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি নারীর যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছেন, ধর্ষণের শিকার হয়ে যাকে গঞ্জনা সইতে হয়েছে নিজ্বের পরিবারেও। একের পর এক ধর্ষণের ঘটনায় খবরের শিরোনাম হওয়া ভারতে কমিক বইয়ের নতুন ‘সুপার হিরো’ এই ‘প্রিয়া’। যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে তিনি সঙ্গে পেয়েছেন ভারতীয় পুরানের সবচেয়ে শক্তিশালী জুটি শিব আর পার্বতীকে। এশীয়ার সবচেয়ে বড় বস্তি হিসাবে পরিচিত মুম্বাইয়ের ধারাবি এলাকার দেওয়ালে দেওয়ালে এখন বাঘের ওপর সওয়ারী প্রিয়ার ছবি। কমিক বই থেকে স্মার্ট ফোন- সব মাধ্যমেই ছড়িয়ে পড়ছে ‘প্রিয়ার শক্তি’।
‘প্রিয়ার’ নির্মাতা ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান চলচ্চিত্রকার রাম দেবীনেনি এ উদ্যোগকে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে একটি সামজিক আন্দোলনের রূপ দিতে চান। রাস্তায় রাস্তায় প্রিয়ার ছবি ছড়িয়ে দিতে তিনি মুম্বাইয়ের চিত্রশিল্পী এবং সিনেমার পোস্টার আঁকিয়েদের সহায়তা নিচ্ছেন।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২ সালে বাসে ধর্ষণের শিকার হয়ে এক প্যারামেডিকেল ছাত্রীর মৃত্যুতে পুরো ভারত যখন ক্ষোভে ফুঁসছে, রাম দেবীনেনি তখন নয়া দিল্লিতে।  দিল্লির রাস্তায় যখন বিক্ষোভ চলছিল, আমিও তখন শেখানে ছিলাম। সে সময় এক পুলিশ কর্মকর্তার কথা আমাকে বিস্মিত করে। তার বক্তব্য ছিল- কোনো ভালো মেয়ে রাতে রাস্তায় বেরোয় না! পুলিশের ওই বক্তব্যে রাম দেবীনেনির উপলব্ধি হয়, ধর্ষণ আর যৌন হয়রানি ভারতের একটি সংস্কৃত্বিক ইস্য্যু, যার মূলে রয়েছে পুরুষতান্ত্রিকতা, নারীর প্রতি অবজ্ঞা ও মানুষের ভুল ধাস্মরণা। এ কারণে ধর্ষককে নয়, উল্টো ধর্ষিতাঁকেই ‘সামাজিক বয়কট’সহ নানা বিড়ম্বানার শিকার হতে হয়। তার তৈরি কমিক ‘প্রিয়ার শক্তি’তেও ভারতীয় সমাজ্বের এই কঠিন বাস্তবতা উঠে এসেছে, যেখানে ধর্ষিত হওয়ার পর প্রিয়ার পাশে না দাঁড়িয়ে তাঁকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় তার পরিবার। কমিক গল্পে দেবী পার্বতী ও দেবতা শিবের সহায়তায় সেই দুর্ভাগ্যকে অতিক্রম করেন প্রিয়া। বাঘের পিঠে চড়ে ফিরে আসেন নিজ্বের শহরে; তার দুর্ভোগের জন্য যাঁরা দায়ী তাদের শায়েস্তা করতে সক্ষম হন। ভারতের ৮০ শতাংশ মানুষ হিন্দু হওয়ায় হিন্দু পুরোনোকেই কমিক গল্পের ভিত্তি হিসাবে বেছে নিয়েছেন বলে জানান দেবীনেনি। কমিক বইটি শিগগিরই হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় কমিক কন মুম্বাই থেকে বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যাবে বলেও বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়। দিল্লিতে ২০১২ সালের ঘটনার পর সরকার ধর্ষণবিরোধী আইন সংশোধন করার পাশাপাশি ওই ঘটনায় জড়িত চারজনকে মৃত্যুদ- দিয়েছে আদালত। তারপরও প্রায়ই নতুন নতুন ঘটনা সংবাদের শিরোনামে আসছে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত ‘বিশ্বভারতীর’ মতো শিক্ষায়তনেও সম্প্রতি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বাংলাদেশি এক শিক্ষার্থী।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য