শাহরিয়ার হিরুঃ অনেক শীর্ষ স্থানীয় মহিলা নেতৃবৃন্দকে না জানিয়ে প্রায় ১৯ বছর পর গোপনে বর্ধিত সভা, সদর উপজেলার উন্নয়নকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেয়া ও পুলিশকে দিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের মহিলা লীগ নেতৃদের গ্রেফতারের নির্দেশকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরে মহিলা আওয়ামী লীগের বিভক্ত দু’গ্র“পের মধ্যে চুলোচুলি, কথা কাটাকাটি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তৃণমূল পর্যায়ে মহিলা নেতাকর্মীরা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী সুলতানা বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদিকা তারিকুন আহমেদ লাবুনকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এঘটনায় ৬ জন মহিলা নেত্রী লাঞ্চিত হয়। তাৎক্ষণিক ভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় দিনাজপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা বাসুনিয়াপট্টিস্থ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ডাকা হয়। এই বর্ধিত সভায় জেলা মহিলা লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদিকা শিরিন ইসলামসহ অনেক জেলার নেতৃবৃন্দ ও শহর মহিলা লীগকে জানানো হয়নি। এদিকে বিজয় দিবসের কর্মসূচি পালনের জন্য দুপুর ১২টায় একই স্থানে শহর মহিলা আওয়ামী লীগের জরুরী সভা আহবান করা হয়। শহর মহিলা আওয়ামী লীগের খ্রীষ্টিনা লাভলী দাস জানান, সভা করতে গিয়ে দেখা যায় জেলা মহিলা লীগ গোপনে বর্ধিত সভা করছে। এসময় হাকিমপুর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদিকা ফেন্সি তাদেরকে অফিস থেকে চলে যেতে বলেন এবং জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী সুলতানা বুলবুল পুলিশ ডেকে মহিলা নেত্রীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়। কিছুক্ষন পর জেলা মহিলা সাধারন সম্পাদিকা তারিকুন ইসলাম লাবুন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বীরগঞ্জ ও বোচাগঞ্জ উপজেলায় যে হারে উন্নয়ন হয়েছে সে তুলনায় সদর উপজেলায় উন্নয়ন হয়নি। হুইপ ইকবালুর রহিম সদর উপজেলায় তেমন উন্নয়ন করতে পারেনি। শহর মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রীবৃন্দ এই অসত্য বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। শুরু হয় ধাক্কা-ধাক্কি, হৈ চৈ ও হট্টগোল।

এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী সুলতানা বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদিকা তারিকুন আহমেদ লাবুন, যুগ্ম সম্পাদিকা শিরিন ইসলাম, শহর মহিলা আওয়ামী লীগের খ্রীষ্টিনা লাভলী দাস ও হাসিনা বানু শিউলির মধ্যে তুমুল বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে উভয় গ্র“পের মধ্যে বাকবিতন্ডা সাথে সাথে চুলোচুলি, কথাকাটাকাটি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদিকা শিরিন ইসলাম জানান, ১৯ বছর ধরে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়নি। অবৈধ ভাবে কমিটি চলছে। বর্ধিত সভায় আমাকেসহ, শহর মহিলা লীগ ও অসংখ্য শীর্ষ নেতাদের বর্ধিত সভার নোটিশ দেয়া হয়নি। গোপনে বর্ধিত সভার আয়োজন ফাঁস হয়ে গেলে জেলা মহিলা লীগের সভাপতি ও সম্পাদক ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। তৃণমূল পর্যায়ের মহিলা লীগ নেতাকর্মীরা ১৯ বছরের অবৈধ কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে আহবায়ক কমিটির দাবি জানিয়ে শ্লোগান শুরু করলে সভানেত্রী সুলতানা বুলবুল মোবাইলে পুলিশ ডেকে আনেন। এতে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং সভাপতি সম্পাদককে অবরুদ্ধ করে।

পুলিশ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ফরিদুল ইসলাম, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের শান্ত করে। কোতয়ালী পু্িরলশের এস.আই হারুন জানান, সভাপতি সুলতানা বুলবুলের নির্দেশে এসে ছিলেন। উভয় পক্ষকে শান্ত করা হয়েছে। এদিকে জেলা মহিলা লীগের সাধারন সম্পাদিকা তারিকুন ইসলাম লাবুনকে মোবাইলে বার বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে শহর মহিলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়িকা খ্রীষ্টিনা লাভলী দাসের সভাপতিত্বে ও ১২টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে মহান বিজয়ী দিবসের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য