মোঃ মীর কাসেম লালু, বীরগঞ্জ দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ বীরগঞ্জ গত শনিবার মুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে র‌্যালী ও শহীদ বেদীতে পুষ্পার্পন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক সাংসদ মোঃ আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে উপজেলা চত্তর থেকে একটি র‌্যালী শহরের প্রধান প্রধান সড়ক দক্ষিণ করে। র‌্যালী শেষে শহীদ বুধারু সড়কে অবস্থিত বুধারু স্মৃতি স্তম্ভে এবং বীরগঞ্জের প্রথম শহীদ ন্যাসনাল (সোনালী ) ব্যাংক অব পাকিস্তান বীরগঞ্জ শাখার গার্ড লক্ষীপুর জেলার জেলার লক্ষীপুর থানার দিঘলী গ্রামের মৃত. সিকান্দার আলীর পুত্র মোঃ মহসিন আলী  এবং বীরগঞ্জ উপজেলার সুজালপুর ইউনিয়নের শীতলাই গ্রামের মোঃ আব্দুর রাজ্জাক এর সমাধীতে পুষ্প অর্পন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক সাংসদ মোঃ আমিনুল ইসলাম, বীরগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ খয়রুল ইসলাম চৌধুরী, ওসি (প্রশাসন) কেএম শওকত হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার প্রভাষক কালী পদ রায়,পল্লিবিদ্যুতের এরিয়া পরিচালক মোঃ আইয়ুবুল ইসলাম মিন্টু, হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অরুন চন্দ্র দাস, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক আবুসামা মিয়া ঠান্ডু,  প্রমুখ।

১৯৭১সালের ৬ই ডিসেম্বর বীরগঞ্জ শক্র মুক্ত দিবস। এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে বীরগঞ্জ এলাকাকে শক্রমুক্ত করে মুক্তি বাহিনী এবং মিত্র বাহিনীর যোদ্ধারা। পার্শ্ববর্তী জেলা ঠাকুরগাঁও জেলা ৩ডিসেম্বর শক্র মুক্ত হওয়ার পর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী সৈয়দপুর (পাক বিহার) অভিমুখে পালিয়ে যাবার সময় মুক্তি বাহিনী ও মিত্র বাহিনীর প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়ে। হানাদার বাহিনী বীরগঞ্জ থেকে পিছু হটে বীরগঞ্জ-কাহারোল উপজেলার সীমান্তে দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়কে ভাতগাঁও ব্রীজের পুর্ব প্রান্তে অবস্থান নেয়। এখানে পাকিবাহিনী ও রাজাকারদের সাথে মুক্তিবাহিনীর তুমুল যুদ্ধে ভাতগাঁও ব্রীজের একাংশ ভেঙ্গে যায়। এখানে বেশ কিছু মুক্তি বাহিনী ও মিত্র বাহিনীর যোদ্ধা শহীদ হন। স্বাধীনতা যুদ্ধে দিনাজপুর ৬ নম্বর সেক্টরের অধীন হওয়ায় বীরগঞ্জ উপজেলা এর আওয়াতধীন ছিল। লে. কর্ণেল কাজী নুরুজ্জামান এর নেতৃতাধীন সেনাবাহিনীর হাবিদার মোস্তাফিজুর রহমান বীরগঞ্জ ও খানসামার যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্বে নিয়েজিত ছিলেন। ৫ডিসেম্বর বিকেল ৪টায় মিত্র বাহিনীর বিমান হামলার মধ্যে দিয়ে বীরগঞ্জ শক্র মুক্ত হতে থাকে। রাতেই পুরো এলাকা মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী পুরোপুরি দখল করে নেয়। সকালে বীরগঞ্জের অলিগলিতে পত পত করে উড়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে ১৪এপ্রিল ন্যাশনাশ ব্যাংক অব পাকিস্তান বীরগঞ্জ শাখার গার্ড লক্ষীপুর জেলার জেলার লক্ষীপুর থানার দিঘলী গ্রামের মৃত. সিকান্দার আলীর পুত্র মোঃ মহসিন আলী  এবং বীরগঞ্জ উপজেলার সুজালপুর ইউনিয়নের শীতলাই গ্রামের মোঃ আব্দুর রাজ্জাক মদনপুর সন্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন।

৭১‘র দেশের বিভিন্ন রণাঙ্গনে বীরগঞ্জের বীর সন্তান বুধারু বর্মন, রমেন সেন ও মতিলাল বর্মনসহ ৩জন শহীদ হন। ২০০৮সাল থেকে বীরগঞ্জ মুক্ত দিবস আনুষ্ঠানিক ভাবে পালন করা হয় । স্থানীয় সাংবাদিক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক এ বিষয়টি পত্রিকায় তুলে ধরেন এবং উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত বিজয় দিবস উদযাপন প্রস্তুতি সভায় দিনটিকে আনুষ্ঠানিক ভাবে পালনের দাবি জানান। দাবির প্রেক্ষিতে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হাসান মারুফ আনুষ্ঠানিক ভাবে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সেই সভায় সর্ব সন্মতি ক্রমে বীরগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরীকে দিবসটি পালনের সার্বিক দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০০৮সালে বীরগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরীর বর্ণিল আয়োজনের মধ্যদিয়ে স্বাধীনতার পর প্রথম বারের মত আনুষ্ঠানিক ভাবে পালন করা হয় বীরগঞ্জ মুক্ত দিবস।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য