নীলফামারীর জলঢাকায় জেলা ঘোষিত কমিটি প্রত্যাখান করে সাংবাদিক সন্মেলন করে উপজেলা ও পৌর শাখার পাল্টা কমিটি গঠন করেছে বিএনপির একাংশ। বুধবার দুপুরে স্থানীয় ডাকবাংলো মাঠে আয়োজিত সংবাদ সন্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নবগঠিত কমিটির উপজেলা সভাপতি মালেকুজামান দোদুল। এসময় উপস্থিত ছিলেন নবগঠিত উপজেলা সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম (আলো), সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আজাদ, পৌরসভাপতি রোকনুজ্জামান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বাসার (মিন্টু), সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম (শফি) প্রমুখ। লিখিত বক্তব্যে জেলার ঘোষিত কমিটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে তিনি বলেন, গত ২৮ নভেম্বর কোন প্রকার প্রচারণা ছাড়াই পৌর শহর থেকে ৩ কিঃমিঃ দূরে একজন অর্ধশিক্ষিত, অদক্ষ, মাদকাসক্ত, ফাহমিদ ফয়সাল কমেট চৌধুরীকে উপজেলা সভাপতি ঘোষণা করে জেলা কমিটি। যার বিরুদ্ধে রয়েছে গত ৫জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচনে বর্তমান সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগ। লিখিত বক্তব্যে নিজেকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি দাবি করে মালেকুজ্জামান দোদুল এ কমিটিকে চাচা ভাতিজার কমিটি আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘৭১এর মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকারের সন্তান আহম্মেদ সাঈদ চৌধুরী ডিডু কে পৌর সভাপতি হিসাবে মনোনীত করায় আমরা হতাশ। তাই বিএনপির অস্তিত্ব সংকট দেখা দেওয়ায় আমরা ঐ দিনেই উপজেলা কমিটিতে মালেকুজ্জামান দোদুল সভাপতি খুরশীদ আলম আলোকে সাধারণ সম্পাদক ও পৌর সভাপতি রোকনুজ্জামান চৌধুরী ও আবুল কালাম বাসার মিন্টুকে সাধারণ সম্পাদক করে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করি। যা আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়’। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত উপজেলা বিএনপি সভাপতি ফাহমিদ ফয়সাল কমেট চৌধুরী জানায়, গণতান্ত্রীক সকল নিয়ম মেনেই জেলা নেতৃবৃন্দ আমাদেরকে কমিটি দিয়েছেন। এর বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিয়েছেন তারা বিএনপির নীতি আদর্শকে ভুলন্ঠিত করেছেন। অপরদিকে নীলফামারী জেলা বিএনপি সভাপতি এডঃ আনিসুল আরেফিন চৌধুরী এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘পদ বঞ্চিতরা এমনটি করতেই পারে’। সংবাদ সম্মেলনের পর নবগঠিত উপজেলা ও পৌর কমিটির নেতাকর্মীরা একটি আনন্দ মিছিল পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য