IMG_0357 copyদিনাজপুর প্রতিনিধি ॥ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেত্রীবৃন্দ বলেছেন, কোনরকম অভিযোগ তথ্য প্রমান ছাড়াই এমনকি কোনরকম তদন্ত কমিটি ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছাড়াই সম্পূর্ণ মিথ্য ও বানোয়াট অভিযোগের ভিত্তিতে হাবীপ্রবির ছাত্রদের বহিষ্কার করা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ অবৈধ ও অনিয়মতান্ত্রিক। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও তার এজেন্ড কয়েকজন শিক্ষকের দ্বারা ভর্তিতে ডিজিটাল জালিয়াতিতে একটি ফ্রড ছেলেকে আটক করে পুলিশে না দিয়ে চার ঘন্টা ভিসির কক্ষে আটকিয়ে রেখে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দার করিয়ে ১৫ মিনিটের মধ্যে ডিসিপ্লিন কমিটির মিটিং ডেকে কোন রকম তথ্য প্রমান ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিময় নীতির তোয়াক্কা না করে ২ জন ছাত্রকে বহিষ্কারাদেশ দেওয়া যে উদ্দেশ্যমূলক তা সম্পূর্ণ দিনের মত পরিষ্কার।

বক্তারা আরো বলেন হাবিপ্রবির গঠিত তদন্ত কমিটির দারা কখনই সুষ্ঠ তদন্ত হবে না। হাবিপ্রবির মাননীয় চ্যান্সেলর মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধান মন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত আপরাধীদের বের করার। তা না হলে মূল আপরাধীরা ধরা ছোয়ার বাইরে চলে যাবে। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত ছাত্রদের বলির পাঠায় পরিণত করবে হাবিপ্রবির ভিসি ও তার মদতপৃষ্ঠ শিক্ষকবৃন্দ।

হাবিপ্রবির ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলাকালিন ২৫ নভেম্বর মঙ্গলবার ভিসির পদত্যাগের দাবীতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শেষে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।

মিছিল শেষে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন হাবিপ্রবি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ইফতেখারুল ইসলাম রিয়েল, সদস্য সচিব মোঃ রফিকুল ইসলাম, ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সামির, সফিাত সাহা, আহমাদুল হক খোকন, অনিন্দ্য দত্ত, তাহামিদুল ইসলাম রুপক, রাশেদ খান মিলন, জাহান আলী, রনি কুমার সাহা, আবু সালে মোঃ সয়েব, শাওন, নিশাত, মামুন-অর রশিদ, মনিরুল ইসলাম মনি, এসকে সুব্রত প্রামাণিক, সাকিবা তাবাসসুম হক প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ৪ নভেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে হাবিপ্রবিতে ২০১৫ শিক্ষাবর্ষের অনার্স ১ম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষায় ১০৩ নং কক্ষে অত্যাধুনিক মোবাইল ডিভাইস ব্যবহার করে নকল করার সময় রংপুরের পীরগাছা এলাকার আবুল হোসেন লিটন নামে একজনকে অটক করে দায়িত্বরত শিক্ষক। আটক আবুল হোসেন লিটন সে সময় জানায়, তাকে ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে ক্যালকুলেটরের ছদ্মাবরনে মোবাইল ডিভাইস দিয়েছিল তার বন্ধুর বড় ভাই।

সে ঢাকা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স পাশ করেছে। নাম তার মনির। এ ঘটনায় হাবিপ্রবি’র কর্তৃপক্ষ বৈঠক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক অরুন কান্তি রায় সিটন ও আবাসিক হল ডি শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম জাহিদ হোসেনকে সাময়িক বহিস্কার করে। ওই ২ ছাত্রলীগ নেতাকে বহিস্কারের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা ৪ নভেম্বর মঙ্গলবার রাত থেকে প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও, বিক্ষোভ মিছিল, বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে আসছে এবং ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ডাকে গত ১৭ নভেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের ছাত্র ধর্মঘট চলছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য