Tarun Tejpalভারতের সাড়া জাগানো সাপ্তাহিক তেহেলকার সাবেক প্রধান সম্পাদক তরুণ তেজপালের বিরুদ্ধে সহকর্মীকে ধর্ষণের চার্জশিট দাখিল করেছে এনেছে গোয়া পুলিশ। এর আগে গত বছরের ২২ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল।সোমবার গোয়ার বিচারবিভাগীয় প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট অনুজা প্রভুদেশাইয়ের আদালতে তরুণ তেজপালের বিরুদ্ধে প্রায় ২৭০০ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। চার্জশিটে তেজপালের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ছাড়াও যৌন নির্যাতন ও মহিলার শ্লীলতাহানিরও অভিযোগ আছে। এসব অভিযোগে গত আড়াই মাসেরও বেশি সময় ধরে তেজপাল গোয়ার জেলে আটক রয়েছেন। তবে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন। দিল্লিতে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে চলন্ত বাসে এক তরুণীর গণধর্ষণের পর ভারতে ধর্ষণের সংজ্ঞা বদলে আইন অনেক কঠোর করা হয়েছে। তরুণ তেজপালই হলেন প্রথম সামাজিকভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে নতুন আইনে চার্জ আনা হল। গোয়া পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তেজপালের বিরুদ্ধে তদন্তে নানা নতুন তথ্য বেরিয়ে আসার পরই চার্জশিটে ধর্ষণের অভিযোগ যুক্ত হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, “প্রথমে মামলা রুজু হয়েছিল যৌন নির্যাতন বা শ্লীলতাহানির অভিযোগেই। কিন্তু পরে ভারতীয় দণ্ডবিধির আরও কয়েকটি ধারা যুক্ত করার মতো যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ আমরা পেয়েছি। এ কারণেই শেষ পর্যন্ত ধর্ষণের অভিযোগ এসেছে এবং ধর্ষণের বিরুদ্ধে আইন সংশোধনের পর নতুন আইনে এটাই আমাদের প্রথম চার্জশিট। চার্জশিটে বলা হয়েছে, “এই মামলায় যৌন নিগ্রহের শিকার হওয়া নারী একজন তরুণ সাংবাদিক। তেজপাল তাকে ধর্ষণ করেছেন, যৌন হয়রানি করেছেন। ওই নারী তেজপালকে বাবার মতো শ্রদ্ধা করতেন।এ ঘটনার পর ওই নারী সাংবাদিক মানসিকভাবে পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এর আগে অভিযোগকারী ওই নারী সংবাদকর্মী বলেছিলেন, “তিনি যৌন অসদাচরণের শিকার। মেয়ের বয়েসী হওয়ার পরও এবং আপত্তি তোলা সত্ত্বেও তার সঙ্গে একাধিকবার ওই আচরণ করা হয়েছে। চার্জশিটে নির্যাতিতা মহিলা ছাড়াও তেহেলকার অনেক কর্মীসহ মোট ১৫২ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। এছাড়া, গোয়ার যে পাঁচতারা হোটেলে ওই ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছিল বলে অভিযোগ, সেখান থেকে সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজও জমা দেয়া হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দোষী প্রমাণিত হলে তেজপালের কমপক্ষে সাত বছরের জেল হবে। গত বছর নভেম্বর মাসে তেহলকার থিঙ্ক ফেস্ট চলাকালীন গোয়ার একটি হোটেলে সহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তরুণ তেজপালের বিরুদ্ধে। ধর্ষণের এ অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর তেহেলকার প্রধান সম্পাদকের পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ান তেজপাল। ৩০ নভেম্বর গোয়া পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ তেহেলকা প্রধানকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তরুণ তেজপাল ভাস্কোর সাদাতে জেল হেফাজতে আছেন। চলতি মাসের ১০ তারিখ গোয়ার একটি স্থানীয় আদালত তেজপালের জেল হেফাজতের মেয়াদ আরও দুই সপ্তাহের জন্য বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, তরুণ তেজপাল বম্বে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য