DDinajpurরতন সিং, দিনাজপুর থেকে ॥ ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনী সহিংসতার অভিযোগে দিনাজপুর জেলার ১১টি উপজেলায় দায়েরকৃত ১২৮টি মামলার মধ্যে ৯৮টি মামলা তদন্ত সম্পন্ন করে সাড়ে ৫ হাজার বিএনপি-জামায়াত-শিবির ক্যাডারদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র পেশ করা হয়েছে। অপর ৩০টি মামলা তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শিঘ্রই ওই মামলাগুলোর অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করা হবে।

জানা গেছে, গত ২৫ আগষ্ট থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে ১১টি উপজেলায় নির্বাচনী সহিংসতায় দায়েরকৃত ১২৮টি মামলার মধ্যে ৯৮টি মামলার পুলিশ তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র পেশ করেন। অভিযোগপত্রে বিএনপি-জামায়াত ও শিবিরের প্রায় সাড়ে ৫ হাজার ক্যাডারদের আসামী করা হয়েছে। আসামীদের মধ্যে ২ হাজার ১শ আসামীকে পুলিশ পর্যায়ক্রমে গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ১ হাজার সাড়ে ৯শ আসামী ইতিমধ্যেই আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছে।

অপর দেড়শ আসামী জেল হাজতে আটক রয়েছে। চার্জশীটভুক্ত সাড়ে ৫ হাজার আসামীর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৭শ আসামীকে পলাতক দেখিয়ে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর আবেদন করেছে আদালতে। সূত্রটি জানায়, খুব শিঘ্রই আদালত থেকে পালিয়ে থাকা প্রায় ২ হাজার ৭শ আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী হবে। চার্জশীটভুক্ত মামলাগুলোর মধ্যে দিনাজপুর সদরে ৮টি, বীরগঞ্জে ৯টি, খানসামায় ১১টি, চিরিরবন্দরে ১৫টি, পার্বতীপুরে ৯টি, ফুলবাড়ীতে ৬টি, বিরামপুরে ৭টি, নবাবগঞ্জে ১০টি, ঘোড়াঘাটে ১১টি, হাকিমপুরে ৪টি ও কাহারোলে ৮টি মামলায় তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারীর ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোট গ্রহণের আগে ও পরে দিনাজপুর জেলার ৫টি সংসদীয় আসনের অন্তর্গত ১১টি উপজেলায় ভোট কেন্দ্রে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, ভোটদানে বাধা, সংখ্যালঘুদের হুমকি এবং নির্বাচনের পক্ষের লোকজনের উপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগে ১২৮টি মামলা দায়ের করা হয়। ১২২৬ জন বিএনপি, জামায়াত-শিবির ক্যাডারের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাতনামা ২৫ হাজার ৩শ নির্বাচন বিরোধী উচ্ছৃংখলদের মামলার আসামী করা হয়েছে।

দায়েরকৃত মামলার বাদীরা হলেন ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। সহিংস ঘটনায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ ও চিত্র দেখে আসামীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। আসামীদের মধ্যে বেসরকারী স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকের সংখ্যা অনেক বেশি। জেলায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সুশৃঙ্খলভাবে আসামীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চালানোর কারণে সহিংস ঘটনা অনেকাংশই কমে গেছে।

দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মোঃ রুহুল আমিন জানান, ১১টি উপজেলায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ১শ আসামীকে গ্রেফতার করলেও আদালতে জামিন নিয়ে ১ হাজার সাড়ে ৯শ জন মুক্ত রয়েছে। কারাগারে আটক রয়েছেন দেড়শ জন। আসামীদের গ্রেফতার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য