3_pregnentআন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রসব যন্ত্রণা এতদিন পর্যন্ত সহ্য করতে হত শুধু মহিলাদেরই। সন্তান জন্মাবার সময় একজন মাকে ঠিক কতটা যন্ত্রণা সহ্য করতে হয় তার আভাস কোনও দিনও পাননি বাবারা। যেহেতু কোনও পুরুষকে কোনওদিনও প্রসব যন্ত্রণা সহ্য করতে হয় না তাই সন্তানসম্ভাবা সঙ্গিনীর প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতিও দেখান না তাঁরা। অনেক ক্ষেত্রে এমন অভিযোগও করেছেন হবু মায়েরা। এই বার পুরুষদেরও প্রসব যন্ত্রণা অনুভবের সুযোগ করে দিতে এগিয়ে এল পূর্ব চীনের এক হাসপাতাল। চীনের শাডং প্রদেশের এইমা মেটারনিটি হাসপাতাল হবু বাবাদের প্রসব যন্ত্রণার কষ্ট বোঝাতে সপ্তাহে দু’টি করে ফ্রি সেশন-এর ব্যবস্থা করেছে। এখনও পর্যন্ত ১০০ জন পুরুষ এই অভিজ্ঞতা গ্রহণ করতে এগিয়ে এসেছেন। হবু বাবাদের সঙ্গে সঙ্গে এই তালিকায় রয়েছেন উৎসাহী কিছু পুরুষও। পরীক্ষার সময় তলপেটে একটি প্যাড আটকে তার সঙ্গে একটি যন্ত্র জুড়ে দেওয়া হয়। এর থেকে ইলেক্ট্রিক শক তলপেটে ছড়িয়ে পড়ে। রেগুলেটরের মাধ্যমে এই যন্ত্রণা ১ থেকে ১০ অবধি বাড়ানো যায়। পরীক্ষাধীন ব্যক্তি যখন যন্ত্রণায় ছটফট করেন সেখানে উপস্থিত নার্স রেগুলেটর দিয়ে শকের মাত্রা আসতে আসতে কমিয়ে ফেলেন। পরীক্ষার সময় মোটামুটি ৫ মিনিট ধার্য্য করা হলেও সিংহভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে এই যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছেন না পরীক্ষাধীন ব্যক্তি। সং সিলিংয়ের প্রেমিকা গর্ভবতী। প্রেমিকার যন্ত্রণা বুঝতে সং নিজে থেকেই এসেছিলেন এই অত্যাচার সহ্য করতে। তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে সং বলেছেন “মনে হচ্ছিল আমার ফুসফুস আর হার্ট যেন শরীর থেকে ঠিকরে বেড়িয়ে আসবে। রেগুলেটরের কাঁটা ৭ ছোঁয়ার আগেই যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে সং নার্সকে সিস্টেম বন্ধ করতে বলেছিলেন। তবে দায়িত্বে থাকা নাসর্রা বলছেন যতই শক দেওয়া হোক না কেন এর সঙ্গে প্রসব যন্ত্রণার তুলনা হয় না। তবে তাঁরা আশা করেছেন এই যন্ত্রণা ভোগ করলে সঙ্গিনীর গর্ভাবস্থার সময় তারা হয়ত কিছুটা বেশি সংবেদনশীল হবেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য