আগের দিনে জমির সবচেয়ে বেশি ফলন হওয়া ধান শুকিয়ে সংরক্ষণ করে বীজ হিসেবে রাখত কৃষকরা। বীজ নিয়ে বাড়তি কোনো চিন্তাও ছিলনা তাদের। বীজ ভাল হওয়ার নিশ্চয়তা তো থাকতই। কিন্তু এখন কোনো কৃষক আর নিজস্বভাবে বীজ সংরক্ষণের কথা ভাবেন না। বাজারের প্যাকেটবীজের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন তারা। কিন্তু এসব বীজ কিনে প্রতারিতও হচ্ছেন কৃষকরা। ফলন কম হওয়া, ধানের জাত নিয়ে অনিশ্চয়তা, ধানগাছের শীষ ছোট বড় হওয়া ও চিটা হওয়ার মত অতীত অভিজ্ঞতার কারণে এবার বীজ বপন নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কৃষককুল। উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাটি গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম স্বর্ণা কোম্পানির হাইব্রিড ধান বীজ কিনে গতবার প্রতারিত হয়েছেন। বীজতলা থেকে চারা তুলে রোপনের পর ৩০ দিনের মধ্যেই আগাম থোর এসে ফলন বিপর্যয় হয় তার। পুরো জমিতে ২ মন ধানও হয়নি। একই কথা জানালেন, কৃষক ইয়াকুব আলী ও আনোয়ার হোসেন। কৃষকরা জানান, বাজার থেকে ধানবীজের প্যাকেট কিনে বপন করতে ভয় পাচ্ছেন তারা। উচ্চ ও ভাল ফলনের আশায় মন মাতানো বাহারি প্যাকেট কিনে ইতোপূর্বে প্রতারিত হওয়ায় এবার বপন কাজ দেরি করছেন তারা। কোন কোম্পানির বীজের প্যাকেট কিনবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না। এদিকে বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বীজের দোকানগুলোতে শুধুই হাইব্রিড প্যাকেট বীজের ছড়াছড়ি। কৃষকদের নানাভাবে বুঝিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে এসব বীজ। হাইব্রিড স্বর্ণা, হীরা, পারটেক্স, রঞ্জিত, হীরা-২, রাজকন্যা, রূপসীসহ নানা নামের প্যাকেট বীজ দ্বারা বাজার সয়লাব হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে প্যাকেট তৈরি করে স্থানীয় ভাবেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী হাইব্রিড ধান বীজ প্যাকিং করে চড়া মূল্যে বাজারে বিক্রি করছে। অথচ এসব তদারকির কোনো ব্যবস্থা নেই। ১ কেজি প্যাকেট আড়াই থেকে ৩শ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। কৃষকদের আকৃষ্ট করতে নিজ নিজ বীজ কোম্পানির  সুনাম মাইকে জারি সারি গান গেয়ে প্রচার করা হচ্ছে। এসব নিয়ে কথা হলে, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মবিনুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ফলন ভালো হওয়ার জন্য প্রথম কাজ ভালো বীজ ক্রয় করেন। তবে কৃষকদের শতর্ক হয়ে বীজ ক্রয়ের পরামর্শ দেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য