Dinajpur HSTU-17-11-14----মিজানুর রহমান মিজান ॥ দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর রুহুল আমিনের পদত্যাগের দাবীতে হাবিপ্রবি গীতা সংঘ এর উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন।

১৭ নভেম্বর সোমবার হাবিপ্রবি’র প্রশাসনিক ভবনের সামনে গীতা সংঘ আয়োজিত ভিসি’র পদত্যাগের দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচী চলাকালীণ সময় হাবিপ্রবি’র গীতা সংঘের সভাপতি লিখিত বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির দেশ। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যেখানে এই সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য দৃঢ় প্রত্যয়ে কাজ করে চলেছেন, সেখানে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভি.সি মহোদয়সহ সাম্প্রদায়িক মনোভাব সম্পন্ন কিছু শিক্ষিত জ্ঞান পাপীদের দ্বারা অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ অন্যান্য ধর্মের ছাত্র/ছাত্রীরা নানাভাবে তাদের সাম্প্রদায়িক মনোভাবের শিকার হচ্ছে। আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানাই, যেখানে বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়েই সনাতন বিদ্যার্থীদের প্রার্থনা ও ধর্ম চর্চার জন্য একটি করে উপাসনালয় থাকে সেখানে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের দীর্ঘ দশ বছরের দাবি একটি ‘উপাসনালয়’ (মন্দির) তা এখনও দুঃস্বপ্নই থেকে গেছে।

উক্ত মন্দিরের বিষয়টি মাননীয় হুইপ ইকবালুর রহিমের সমর্থনে রিজেন্ট বোর্ডে পাশ হওয়া সত্ত্বেও ভি.সি মহোদয়ের সাম্প্রদায়িক মনোভাবের কারণে তা ফলপ্রসু হয়ে ওঠেনি। এবং পরবর্তীতে এ বিষয় নিয়ে আমরা সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা তার সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি হিন্দু জঙ্গি হিসেবে আমাদেরকে আখ্যায়িত করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন রকম ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনেও তিনি অনেক সময় আমাদেরকে বাধা দেন।

উনি যে একজন তীব্র সাম্পদায়িকমনা তার প্রমান বিশ্ববিদ্যালয়ে রিজেন্ট বোর্ডে পাশ হওয়া মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্যকেও তিনি হিন্দুদের প্রতিমা বলে আখ্যায়িত করেন। এবং তার সহকারী মদদদাতা চরম সাম্প্রদায়িকমনা ডঃ আনিস খান ভাস্কর্যে শ্রদ্ধাঞ্জলীর বিষয়টিকে হিন্দুদের মূর্তিপূজা বলে আখ্যায়িত করে ভাস্কর্যটি স্থাপনে একমাত্র ভেটো প্রদানকারী হিসেবে দাপটের সহিত নিজেকে জাহির করেন এবং তিনি বিভিন্ন সময়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাত্র/ছাত্রীদের সঙ্গে বিরূপ মনোভাব প্রদর্শন করেন।

দীর্ঘদিন ধরে বিশ^বিদ্যালয়ে ভিসির মদদে অনেক প্রগতিশীল নামধারী সাম্প্রদায়িকমনা শিক্ষক হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে ভাইভা বোর্ডসহ পরীক্ষার হলে কট্টর সাম্প্রদায়িকতার পরিচয় দেন এবং তাদেরকে নানাভাবে ধর্ম নিয়ে উস্কানিসহ তিরস্কার করে থাকেন। এতে মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও একাডেমিক ক্ষেত্রে তারা যথেষ্ট পিছিয়ে পড়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ছোট্ট পরিসরে মন্দিরের অভাবে ছাত্রদের আবাসিক হলের একটি রুমে আমরা সাপ্তাহিক প্রার্থনার আয়োজনে করে থাকি। এ বিষয়টি নিয়ে ভিসি মহোদয় আমাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেন এবং কটাক্ষ করে বলেন- বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে “গীতা সংঘ” বলে কোন রকম সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের সংগঠন থাকবে না। এটা তার তীব্র সাম্প্রদায়িকমনা মনোভাবের পরিচয় বহন করে।

সম্প্রতি রাজনৈতিক একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে ভিসি অরুন কান্তি রায়কে ‘মালাউনের বাচ্চা’ বলে গালিগালাজ করেন। যা সনাতন ধর্মাবলম্বী সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য একটি চরম লজ্জা ও অপমানকর বিষয়। যা তীব্র সাম্প্রদায়িক মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।

আমরা এই অপমানজনক ও সাম্প্রদাযিক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং সেই সাথে অতি শিঘ্রই শিক্ষঅর স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সকল সনাতন ধর্মালম্বী ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষ থেকে সাম্প্রদায়িকমনা এই ভিসি’র পদত্যাগ দাবি করছি।

গীতা সংঘের সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার রায়-এর পরিচালনায় মানববন্ধন কর্মসূচীতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গীতা সংঘের রতন কুমার, দীপেশ চন্দ্র, অপুর্ব কুমার মন্ডল, কমল বৃষ্ণ, প্রকাশ চন্দ্র রায়, বিপুল চন্দ্র রায় প্রমুখ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য