01_sterilize8nআন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে সরকারি উদ্যেগে পরিচালিত বন্ধ্যাকরণ শিবিরে অস্ত্রোপচারের সময় ব্যবহৃত ট্যাবলেটে ইঁদুরের বিষের রাসায়নিক পাওয়া গেছে।  গত সপ্তাহে ছত্তিসগড়ের বিলাসপুরের বন্ধ্যাকরণ শিবিরে অস্ত্রোপচারের পর যে ১৭ মহিলার মৃত্যু হয়েছিল তাদের ওযুধে ইঁদুর মারার বিষে ব্যবহৃত রাসায়নিক থাকতে পারে বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে করছেন সরকারি কর্মকর্তারা। ল্যাবে ওষুধের পরীক্ষার পর জানা গেছে, অ্যান্টিবায়োটিক ট্যাবলেট সিপ্রোফ্লক্সেসিন ৫০০-এ জিঙ্ক ফসফাইড-এর মতো ভেজালের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই জিঙ্ক ফসফাইড রাসায়নিকটি মূলত ইঁদুর মারার বিষে ব্যবহৃত হয়। রায়পুরের ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা মহাবর ফার্মা থেকে এই ওষুধটি প্রথম বাজেয়াপ্ত করা হয়, তারপর তা পরীক্ষার জন্য ল্যাব-এ পাঠানো হয়।  বিলাসপুর জেলার প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ পরদেশি জানিয়েছেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় রোগপ্রতিরোধক সিপ্রোসিন ট্যাবলেটে জিঙ্ক ফসফাইড পাওয়া গেছে। এই ট্যাবলেটগুলো ওই গণবন্ধ্যাকরণ শিবিরে বিতরণ করা হয়েছিল। সিদ্ধার্থ জানিয়েছেন, স্থানীয় মাহাবার ফার্মাসিউটিক্যালসে জিঙ্ক ফসফাইড পাওয়া গেছে এমন খবর পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ ট্যাবলেটগুলো পরীক্ষার করে। ট্যাবলেটগুলো বিষাক্ত ছিল, প্রাথমিক পরীক্ষায় এমন ধারণা পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য ট্যাবলেটগুলোর নমুনা দিল্লি ও কলকাতায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিদ্ধার্থ। তিনি বলেন, অসুস্থদের লক্ষণেও জিঙ্ক ফসফাইড বিষ ক্রিয়ার নমুনা দেখা গেছে, তাই আমরা এই বিষয়টি হয়েছে বলেই মনে করছি। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার গ্রাম থেকে অসুস্থ আরো বেশ কয়েকজন এসে হাসপাতালে ভর্তি হন। এদের অনেকে মাহাবার’র ওষুধ ব্যবহার করেছেন এবং বমি, অস্থিরতা ও প্রচুর ঘাম হওয়ার অভিযোগ জানিয়েছে। বিলাসপুর জেলার প্রধান সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক শুক্রবার এসব কথা জানিয়েছেন। নতুনভাবে অসুস্থ হয়ে পড়া এসব গ্রামবাসীরা বন্ধ্যাকরণ শিবিরে যাননি, আলাদাভা্বে তারা ওই একই রোগপ্রতিরোধী ট্যাবলেটটি গ্রহণ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা। মাহাবারের তৈরি দুই লাখ সিপ্রোসিন ৫০০ ট্যাবলেট ও অন্যান্য ৪০ লাখ ট্যাবলেট জব্ধ করা হয়েছে বলে ছত্তিশগড় রাজ্য সরকার জানিয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য