Tespata-01নিজস্ব প্রতিনিধিঃ দৃঢ় আত্মপ্রত্যয়, পরিকল্পিত কর্মপন্থা আর কঠোর পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে দিনাজপুরে আব্দুর রাজ্জাক নামে এক ব্যক্তি মসলা জাতীয় ফসল তেসপাতা চাষ করে বয়ে এনেছেন ব্যাপক সাফল্য। ব্যক্তি উদ্যোগেই গড়ে তুলেছেন তিনি বাণিজ্যিকভাবে তেসপাতা গাছের প্রদর্শনী বাগান। তেসপাতা বিক্রি করে পেয়েছেন আশাতীত দাম। তার এ সাফল্য দেখে অনেকেই ঝুঁকছেন তেসপাতা চাষে। তেসপাতা চাষ করে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন তুলেছেন তিনি। তার তেসপাতার প্রদর্শনী বাগান দেখতে ছুঁটে আসছেন অনেকেই।

দিনাজপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলো মিটার পশ্চিমে বোচাগঞ্জ উপজেলার বিশাল এলাকা জুড়ে দৃষ্টি নন্দিত মসলা জাতীয় ফসল তেসপাতা বাগান।বোচাগঞ্জ উপজেলার জালগাঁ গ্রামে ৬ বিঘা জমির উপর দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য তেসপাতা গাছ। স্থানীয় বৈদুতিক সঞ্জাম ব্যবসায়ী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক ২০১২ সালের গড়ে তুলেছেন এ বাগান। আব্দুর রাজ্জাক জানান,এক সময়ের পতিত-অনাবাদী ৪০ শতক জমিতে প্রথমে গড়ে তুলেন তিনি এ বাগান। লাভজনক ফসল হওয়ায় এখন তার বিস্তৃতি ঘটিয়েছেন ৬ বিঘা জমিতে। ইতোমধ্যে তিনি প্রায় দু’লাখ টাকার তেসপাতা বিক্রি করেছেন।

দিগন্ত বিস্তৃত সবুজের সমারোহ এ তেসপাতা বাগান এখন অনেকের কাছে আশ্চর্য। তাই এ তেসপাতা বাগান দেখতে অনেকেই ছুঁটে আসছেন। রাজ্জাকের সাফল্য দেখে অনেকেই ঝুকছেন তেসপাতা চাষে। আশপাশ এলাকায় গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ছোট ছোট তেসপাতা বাগান। এমন তেসপাতা চাষী মকবুল ও হারেস। তারা বলেন, আব্দুর রাজ্জাকের সাফল্য দেখে তারাও গড়ে তুলেছেন এ তেসপাতা বাগান।

বাংলাদেশে তেসপাতা চাষের সাফল্য দেখে আশাবাদী স্থানীয় কৃষিবিদরাও। দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, দিনাজপুরের মাটি ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় মসলা জাতীয় ফসল তেসপাতা চাষে চাষীদের পরামর্শ ও সহযোগিতা করছে কৃষি বিভাগ।

ধান ও লিচুর জেলা দিনাজপুরে তেসপাতা চাষ অনেকের কাছে গল্প মনে হলেও সেই অসাধ্যকে সাধ্য করেছেন আব্দুর রাজ্জাক। আর তা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুঁটে আসছেন মানুষ।

মাটি ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বাণিজ্যিকভাবে মসলা জাতীয় ফসল তেসপাতা গাছ লাগিয়ে ব্যাপক লাভবান হয়েছেন এ অঞ্চলের কৃষক। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে এবং এ তেসপাতার ন্যায্য মূল্য পেলে এ অঞ্চলে তেসপাতা চাষের পরিধি আরও বেড়ে যাবে বলে এমনটাই মন্তব্য করেছেন কৃষিবিদরা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য