10-Grand-opening-for-BFF-Football-Academy-Sylhetiদীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে সিলেটে বাফুফে ফুটবল একাডেমির যাত্রা শুরু হয়েছে।  সারা দেশ থেকে বাছাই করা ৪০ ক্ষুদে ফুটবলারদের নিয়ে পথচলা শুরু করছে এই একাডেমি।  গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা ২০ মিনিটে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ফুটবল একাডেমির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ২০০৮ সালে সিলেট নগরীর উপকণ্ঠ খাদিমপাড়া ইউনিয়নের খাদিমনগরে ১৩ একর জায়গা জুড়ে ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে ওঠে সিলেট বিকেএসপি। সব সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় ২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর এই বিকেএসপিকেই ফুটবল একাডেমিতে রূপান্তরের জন্য জাতীয় ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন।  মাসিক ৫০ হাজার টাকা ভাড়ার বিনিময়ে এই চুক্তি হয়। ফিফা’র ‘গোল থ্রি প্রজেক্ট’র আওতায় এখানে বিশ্বমানের একটি ফুটবল একাডেমি করার উদ্যোগ গ্রহণ করে বাফুফে।

২০১২ সালের ৭ মার্চ ফিফা সভাপতি সেফ ব্লাটারও বাংলাদেশ সফরে এসে একাডেমি নির্মাণে সহায়তায় অর্থ বরাদ্দ করার নিশ্চয়তা দেন।  সে বছর ২৯ আগস্ট ফুটবল একাডেমি গড়ার কাজও শুরু হয়।  ফিফার আর্থিক, টেকনিক্যাল ও অবকাঠামোগত সহযোগিতায় এটির কাজ চলে।  কয়েক মাস পরেই এটি উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল।  কিন্তু সেটি আর সম্ভবপর হয়নি। এই ফুটবল একাডেমিতে রয়েছে বহুতল প্রশাসনিক ভবন, স্টাফ কোয়ার্টার, অফিসার্স কোয়ার্টার, জিমনেশিয়াম ও শিক্ষার্থীদের জন্য ৪২ কক্ষের একটিহোস্টেল।  ইতিমধ্যে ফুটবল একাডেমির জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নির্বাচিত অনুর্ধ্ব-১৩ এর ২০ জন ও অনুর্ধ্ব-১৬ এর ২০ জনসহ মোট ৪০ জন ক্ষুদে ফুটবলার একাডেমিতে এসে পৌঁছেছে।  তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়াও শুরু করেছেন একাডেমির কোচ সৈয়দ গোলাম জিলানী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়।  বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক ফিফা’র দুজন শীর্ষ কর্মকর্তা ও বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনও উপস্থিত ছিলেন।

এই ফুটবল একাডেমিকে ঘিরে দেশীয় ফুটবলেও যেমন আলোর সন্ধান চলছে, তেমনি সিলেটের ফুটবল অঙ্গনেও বইছে আশার সুবাতাস।  এই ফুটবল একাডেমিই হয়তো সিলেটের ফুটবলকে নতুন করে জাগিয়ে তুলবে, এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

ফুটবল একাডেমির কোচ সৈয়দ গোলাম জিলানী বাংলামেইলকে বলেন, ‘এখান থেকে বেরিয়ে আসবে অনেক প্রতিভাবান ফুটবলার।  তাদের প্রতিভার দ্যুতি আলো ছড়াবে দেশে-বিদেশে, উজ্জ্বল হবে বাংলাদেশের নাম।  সিলেট ডিএফএ’র সভাপতি ও বাফুফে মিডিয়া কমিটির সদস্য মাহি উদ্দিন সেলিম বলেন, ‘এই একাডেমিতে আবাসিক ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে প্রতিভাবান ফুটবলার গড়ে তোলা হবে।  তাদেরকে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক এমনকি সময়ের সাথে সাথে জাতীয় ফুটবল দলেও খেলার সুযোগ পাবে তারা।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য