5_Imran_Kadriআন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত দেশটির বিরোধীদলীয় দুইনেতাকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করেছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন ও পার্লামেন্ট ভবনে হামলার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই পরোয়ারা জারি করা হয়। ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খান এবং পাকিস্তান আওয়ামি তেহরিকের (পিএটি) প্রধান তাহির-উল-কাদরির বিরুদ্ধে বুধবার এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর পিটিআই ও পিএটি’র শত শত কর্মীসমর্থক পাকিস্তান টেলিভিশন (পিটিভি) ভবনে হামলা চালায়। এ কারণে টেলিভিশন সম্প্রচার কার্যক্রম ৩০ মিনিট বন্ধ ছিল। পিটিভি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, হামলাকারীরা বেশ কয়েকটি ক্যামেরাসহ অন্যান্য কিছু যন্ত্রপাতি নিয়ে গেছেন। আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও এখনো পর্যন্ত দুই নেতার কাউকেই গ্রেপ্তার করা হয়। সূত্র জানিয়েছে, জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তারা গ্রেপ্তারের ব্যাপারে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।

রাজধানী ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের বাসভবন অভিমুখে ওই দুই দলের হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক যাত্রা শুরু করার পর টেলিভিশন ভবনে এই হামলা চালানো হয়। নওয়ার শরিফের পদত্যাগের দাবিতে কাদরি ও তার দল অবস্থান ধর্মঘট শুরু করলেও অক্টোবরে তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। কিন্তু ইমরান খান তার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। বুধবার ইমরান খান ৩০ নভেম্বর ইসলামাবাদে বড় ধরনের জনসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন। একে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ বলে অভিহিত করেছেন। পুলিশ ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে পিটিভি ভবনে হামলার অভিযোগে মামলা গ্রহণ করেছিল। ওই হামলায় জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে সামনের সারির কোন নেতা নেই।

এদিকে, ইমরান ও কাদরি উভয়েই এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রথ্যাখ্যান করেছেন। তারা জানিয়েছেন, আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে তারা আগাম জামিন নেবেন কিনা সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। পিটিআই এর জ্যেষ্ঠনেতা নাইম-উল-হক জানিয়েছেন, তার দল আইনভঙ্গের মতো কোন কাজ করেনি এমন কি পিটিভি ও পার্লামেন্ট ভবনে হামলার ঘটনায় তারা জড়িত নন। তিনি আরো জানিয়েছেন, এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পিটিআই মেনে নেবে না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য