IMG_0990 copyমোঃ মিজানুর রহমান (মিজান), দিনাজপুরঃ- দিনাজপুর শহরে বাহাদুর বাজার উত্তরা সুপার মার্কেট এর স্বত্ত্বাধীকারী নাজমা তার স্বামীসহ তার লোকজনের নির্যাতনে শিকার হয়ে জেনারেল হাসপাতালে মূমুর্ষ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মামলা ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে দিনাজপুর শহরে কাঞ্চন কোলনী মহল্লার ২ সন্তানের জননী নাজমা বেগম দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামী দেলওয়ারসহ তার লোকজনের নির্যাতনে গুরুত্বর আহত হয়ে দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে গত ১৯৮৯ সালে ইসলামী সরাশরীয়ত মতে নাজমা বেগমের সাথে দেলওয়ারের বিবাহ হয়। বিবাহের কিছুদিন পর অর্থাৎ ১৯৯২ সাল থেকে অদ্যাবধি স্বামী তার লোকজনের কথামত দফায় দফায় যৌতুক দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে গুরুত্বর জখমসহ ৩ বার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। এ কারণে দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে কয়েকবার চিকিৎসা গ্রহণ করতে হয়েছে।

আহত নাজমা বেগম জানান সংসারে সুখের জন্য শহরে বাহাদুর বাজার উত্তরা সুপার মার্কেটে শতরুপা গার্মেন্ট দোকান করে আসছি। সুন্দরভাবে আমার ব্যবসা পরিচালনা করা দেখে মার্কেটের কিছু অসৎ ব্যবসায়ীর অসুবিধার সৃষ্টি হয়, ফলে বর্তমান মার্কেট কমিটির সেক্রেটারী জহির সহ ৪/৫ জন জোট বেধে সড়যন্ত্রকরে স্বামী দেলওয়ারকে নেশা, পরকিয়া প্রেম ও জুয়ার জগতে আসক্ত করে।

আরও বলেন শতরুপা গার্মেন্ট দোকান আমার নামে থাকার পরও তারা আমার স্বামী দেলওয়ারকে দিয়ে ১টি দোকান এর পজিশন বিক্রি দিয়েছে। গত ১লা নভেম্বর, ১৪ প্রায় বেলা ১২ ঘটিকার সময় কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিকসহ এলাকার লোকজন নিয়ে শতরুপা গার্মেন্ট দোকানে এসে দেখে দোকানে লাগানো তালাগুলি নেই। উক্ত স্থানে নতুন নতুন তালা লাগানো রয়েছে। আমাদের প্রতিনিধি তালা বদ্ধ অবস্থায় দোকানটির মধ্যে ১টি সাদা কাগজে কোতয়ালী থানায় অবগত করা হয়েছে মর্মে হাতের লেখা ১টি পোস্টার টাঙানো অবস্থায় ছবি ক্যামরা বন্ধি করেন।

ঐ মুহুর্তে নাজমা শহর থেকে একজন দক্ষ মিস্ত্রি এনে লোকজনের সম্মুখে তালাগুলি ভেঙ্গে দোকানের ভিতরে প্রবেশ করে মালামাল ঠিক আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন ১টি র‌্যাক ফাঁকা হয়ে রয়েছে। সেটিতে দামি দামি থ্রিপিসসহ সার্ট ও প্যান্টের কাপড় ছিল, ক্যাশ ফাঁকা টাকাসহ কোন কাগজপত্র নেই। নাজমা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন তাদের স্বামী-স্ত্রীর সুখের সংসার ধ্বংস করতে ঐ চক্র মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে নাজমা গত ৩০ অক্টোবর,১৪ তারিখে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে দিনাজপুর জেলা নারী ও শিশু জজ আদালতে তার স্বামী দেলওয়ারসহ ৬ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন, যার নং-৭৬৯/১৪। এই মামলা দায়েরের পর দেলওয়ার ও তার সহযোগীরা ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহের জন্য নানা অপতৎপরতা শুরু করেন। তারই জের ধরে গত ৮ নভেম্বর, ১৪ বিকেলে খারাপ, দুঃশ্চরিত্রের ৪ সন্তানের জননী একাধিক স্বামীর স্ত্রী কারিমাকে দেলওয়ার তার স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে শতরুপা গার্মেন্টস দোকানে পাঠিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

মার্কেট কমিটির লোকজনের কথামত কোতয়ালী থানায় গিয়ে মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে পিকআপে পুলিশ নিয়ে কারিমা শতরুপা গার্মেন্টস দোকানে এসে দেলোয়ার এর স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে নানা ধরনের ভয়-ভিতি, হুমকি প্রদর্শন করার চেষ্টা করলে উপস্থিত পুলিশ কারিমার প্রতারনা মূলক আচরণ টের পেয়ে ঘটনার নিস্পত্তি করে দেন। পরদিন সকালে শতরুপা গার্মেন্টস দোকান খুলতে এসে নাজমা দেখতে পান যে দোকানের তালাগুলির চাবির লোকারে আঠা দিয়ে ছিদ্র বন্ধ করে দিয়েছে। ঐ দিন সন্ধ্যার পর দেলোয়ারসহ তার দুই ভাই মিলে ৩ জন কাঞ্চন কোলনীর নাজমার বাসায় অনধিকার প্রবেশ করে নাজমাকে শরীরের বিভন্ন জায়গায় মারধরসহ প্রাণাশের হুমকি প্রদান করে চলে যায়। আহত নাজাম বেগম গত ১০ নভেম্বর, সন্ধ্যায় দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে মূমুর্ষ অবস্থা চিকিৎসা জন্য ভর্তি রয়েছে। বর্তমানে নাজমা বেগম তার ২ সন্তানসহ সাক্ষীদেরকে আসামীসহ তার লোকজনরা নানা ধরনের ভয়-ভিতি ও হুমকি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য