মুক্তিযোদ্ধাএকরামুল হক বেলাল,পার্বতীপুর(দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ পার্বতীপুর থেকেঃ ভারতে গিয়ে ট্রেনিং করে মুক্তিযোদ্ধা হতে হবে এটা সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন পার্বতীপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার অ্যাডভোকেট আব্দুল হাই। রোববার দুপুরে পার্বতীপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপজেলা কমান্ডার আব্দুল হাই বলেন- পূর্বেই অস্ত্র ট্রেনিং ছিল এমন ব্যক্তি সহ বি.এল.এফ সদস্যগণের নিকট থেকে দেশের অভ্যন্তরে ট্্েরনিং নিয়ে যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন তারাও মুক্তিযোদ্ধা। উপাজেলা কমান্ডের কাছে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর ক্ষমতা কোন দিনই ছিল না এবং এখনো নেই। উপজেলা কমান্ড শুধুমাত্র মুক্তিযোদ্ধা দাবীদারগণের স্বপক্ষে প্রদত্ত তথ্যাদি জেলায় পাঠিয়ে দিয়ে থাকে। তিনি বলেন, কতিপয় মুক্তিযোদ্ধা গত ২ নভেম্বর পার্বতীপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে পার্বতীপুরে ২৩ রাজাকার সহ ২৭০ জন ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার একটি তালিকা প্রকাশ করে যা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তাদের দেওয়া বক্তব্য ও তথ্যাদি হেতুবিহীন, মিথ্যা, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও তঞ্চকতাপূর্ণ এবং অযৌক্তিক।

২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হওয়ায় তাদের মধ্যে হীন মন্যতা কাজ করে যাচ্ছে। তারা মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা জানেন না কিংবা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে এমন অসত্য তথ্য পরিবেশন করেছেন। তিনি আরও বলেন, অভিযোগকারীগণ ২০০৮ সালের ১৫ জানুযায়ী মুক্তিযোদ্ধা সংসদ দিনাজপুর জেলা ইউনিট কমান্ডার বরাবর একই অভিযোগ করেছিলেন। যার অনুলিপি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সেনা প্রধান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল ঢাকা, মহাপরিচালক মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, কমান্ডার সেনা ক্যাম্প পার্বতীপুর, দিনাজপুর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার সহ বিভিন্ন দপ্তরে দিয়েছিলেন।

সবগুলো  দপ্তরের অভিযোগ একীভূত করে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তা সরেজমিনে তদন্ত করা হয়েছিল। তদন্তে অভিযোগগুলো অসাড় ও মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়। হীন উদ্দেশ্য নিয়েই গুটিকয়েক মুক্তিযোদ্ধা এরূপ নিকৃষ্ট কর্মকান্ড  বারবার চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে পার্বতীপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের নেতৃবৃন্দ সহ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, পার্বতীপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রাক্তন কমান্ডার রিয়াজ উদ্দিন মাহমুদ ২ নভেম্বর পার্বতীপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে পার্বতীপুরে ২৩ রাজাকার সহ ২৭০ জন ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার একটি তালিকা সাংবাদিকদের হাতে ধরিয়ে দেয়। এ জন্য তিনি পার্বতীপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বর্তমান ও সাবেক কমান্ডকে দায়ী করেন। যা ভোরের কাগজ সহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য