Dinajpur-09-11-14--জিন্নাত হোসেন ॥ ফসলের লাভজনক দাম ও পল্লী বিদ্যুতের দূর্ণীতি-অনিয়ম-হয়রাণী বন্ধসহ অন্যান্য দাবী প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি দিনাজপুর জেলা কমিটি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে। জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এনামুল হক।

৯ নভেম্বর রোববার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধামন্ত্রী বরাবর প্রেরিত বাংলাদেশ কৃষক সমিতি দিনাজপুর জেলা কমিটির সভাপতি বদিউজ্জামান বাদল ও সাধারণ সম্পাদক দয়ারাম রায় স্বাক্ষরীত স্মারকলিপিতে বলা হয়। ৬৮ হাজার গ্রাম বাংলার প্রাণ হচ্ছে কৃষক। সরকারের হিসাব মতে দেশে ১ কোটি ৮২ লাখ কৃষক পরিবার রয়েছে। অধিকাংশ কৃষকই ক্ষুদ্র কৃষক। শতকরা ৮৮.৪৮ জন ২.৪৯ একর বা তার কম জমির মালিক। সরকারী হিসাব অনুযায়ী মোট শ্রম শক্তির ৪৮.১ শতাংশ কৃষি কাজে প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত। পরোক্ষভাবে এই সংখ্যাটি আরো অনেক বেশি হবে। আমাদের দেশে খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্নতা অর্জন পুরোপুরি কৃষকদেরই অবদান। ফসলের লাভজনক দাম না পাওয়ায় কৃষি ও কৃষকের অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। কৃষককে এই সংকট থেকে মুক্ত করতে তথা কৃষকের অস্তিত্ব রক্ষার্থে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি দিনাজপুর জেলা কমিটির পক্ষ থেকে নিম্নের দাবী নামা পেশ করা হলোঃ

১. ধান, গম, ভুট্টা, আলু আখসহ সকল কৃষি পণ্যের লাভজনক মূল্য দিতে হবে। মৌসুমের শুরুতেই সকল কৃষি পণ্যের মূল্য বা রেট নির্ধারণ করতে হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারী উদ্যোগে খোদ কৃষকের নিকট কৃষি পন্য ক্রয় করতে হবে।

২. বিদ্যুৎ, সার ,ডিজেল, কীটনাশকসহ সকল কৃষি উপকরণের দাম কমাতে হবে।

৩. পল্লী বিদ্যুতের দূর্নীতি-অনিয়ম-হয়রাণী বন্ধ করতে হবে। ট্রান্সফরমার চুরি বা নস্ট হলে গ্রাহকের উপর দায় বর্তানো বন্ধ করতে হবে মিটার ভাড়া ও মিনিমাম বিল প্রথা বাতিল করতে হবে। অগভীর নলকূপ বা শ্যালো মেশিনের বিদ্যুৎ সংযোগে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ করতে হবে।

৪. আলুসহ সকল শাক সবজি সংরক্ষনের জন্য সরকারী উদ্যোগে পর্যাপ্ত হিমাগার এবং স্বল্প ভাড়ায় সংরক্ষনের ব্যবস্থা করতে হবে। আলু পঁচে গেলে বা নষ্ট হলে কর্তৃপক্ষকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।

৫. ভারত থেকে চোরা পথে আসা ভেজাল সার জমিতে ব্যবহার করার ফলে দিনাজপুরের কৃষকরা দীর্ঘ দিন থেকে প্রতারিত হচ্ছে। আমরা গণমাধ্যম থেকে জেনেছি দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মহোদয় ভারত থেকে চোরা পথে আসা অনেক ভেজাল সার আটক করেছিলেন। কিন্তু ভেজাল সারের চোরা কারবারীরা গ্রেফতার হননি। তাই অবিলম্বে এই দুষ্টচক্রকে গ্রেফতার ও বিচারের মুখোমুখী করতে হবে।

৬. আমরা দীর্ঘ দিন  ধরে লক্ষ্য করছি দিনাজপুরের সকল উপজেলায় হাট বাজারগুলোতে সরকার নির্ধারিত রেট অনুযায়ী খাজনা আদায় করা হয় না। ইজারাদার অনেক হাটবাজারে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করেন। তাই সরকারী নিয়ম অনুযায়ী খাজনা রেটের তালিকা হাটবাজারে প্রকাশ্যে টাঙ্গিয়ে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে হাট-বাজারগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে।

উল্লেখ্য যে, গত ১১-১১-১২ইং ও ০১-০৬-১৪ তারিখে জেলা প্রশাসক সাহেব বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। তিনি অবিলম্বে বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত অনেক হাট-বাজারগুলোতে এ উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায় না।

৭. এক শ্রেণীর প্রভাবশালী লোকজন সরকারী হাট বাজারগুলোর জায়গা দিনে দিনে দখল করছে। এতে কৃষকদের ধান, পাট, গম, আলুসহ অন্যান্য শাক সব্জি ক্রয়-বিক্রয় মারাত্বক সমস্যার সৃষ্টি করছে। অবিলম্বে হাট বাজারগুলোর জায়গা দখলমুক্ত করতে হবে।

৮. বিএডিসি ও বরেন্দ্র প্রকল্পে সেঁচের জন্য সরকারী ভুর্তকি হতে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছে। প্রকৃত কৃষকরা যেন ভর্তুকি পায় তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৯. কৃষি ভূমি রক্ষার জন্য ভুমিনীতি প্রনয়ন কর। ভূমি অফিসে দুর্নীতি-অনিয়ম-হয়রাণী বন্ধ করতে হবে।

স্মারকলিপি প্রদাকান কালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষক সমিতি দিনাজপুর জেলা কমিটির সভাপতি বদিউজ্জামান বাদল, সাধারণ সম্পাদক দয়ারাম রায়, কৃষক সমিতির নেতা আবুল কালাম আজাদ, ইকবাল হাসান সিদ্দিকী, ডাঃ গোকুল চন্দ্র রায়, সবিতা রাণী রায় প্রমুখ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য