বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন (শারীরিক প্রতিবন্ধী) হয়ে জন্মগ্রহণ করেও ঘরে বসে থেকে পরিবারের বোঝা হয়ে থাকতে চায় না পলী রানী (৮)। বাড়ি থেকে কষ্ট করে প্রায় ২ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে প্রতিদিন অন্য শিশুদের মতো সেও স্কুলে যায়। সে শারীরিক অক্ষমতা কে হার মানিয়ে গদাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করতে যায়। সরজমিনে গদাই স্কুলে গিয়ে দেখা ও কথা হয় পলী রানীর সাথে। সে জানায় তার দুই হাত ও দুই পা-ই অচল। জন্ম গত ভাবেই তার এ অবস্থা। বাড়িতে বড় ভাই বোনেরা যখন পড়ালেখা করে এবং স্কুলে যায় তখন তারও স্কুলে যাওয়ার ইচ্ছে হতো। বাড়িতে সে প্রথমে মায়ের সাহায্যে পা দিয়ে কলম ধরতে শেখে এবং আসতে আসতে লিখতে শিখে। একদিন মাকে বলে স্কুলে যাওয়ার কথা। এরপর বাবা তাকে স্কুলে ভর্তি করে দেয়। পা দিয়ে লিখে সে প্রথম শ্রেণী পাশ করে সকলকে তাক লাগিয়ে দেয়। অনেকে বলেছে এটা অসম্ভব সে সেই অসম্ভব কে সম্ভব করে দেখিয়েছে পলি। বর্তমানে সে দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ালেখা করে। তার বাড়ি নিজপাড়া গ্রামে। তার পিতা মনরঞ্জন চন্দ্র একজন ক্ষুদে কাপড় ব্যবসায়ী  ও মা ঝুপালী রানী গৃহিণী। তাদের ৬ ভাই বোনের মধ্যে সে সব ছোট সন্তান। গত মাসে তার বাবা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। বাবাকে হারিয়ে সে খুব কষ্ট পেয়েছে। বাবা তার জন্য মাঝে মাঝে বিভিন্ন ফল এনে নিজে খাইয়ে দিত। বাবা তাকে স্কুলে দিয়ে তার পর দোকানে যেত। এখন তাকে একা একা আসতে হয়। স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকা ও ছাত্র ছাত্রীরা সবাই তার সাথে ভাল আচরণ করে। বিশেষ করে স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাইদূর রহমান তাকে খুবই আদর করেন। পলী জানায় বাবা মারা যাওয়ার পর তাদের সংসারে এখন খুবই অভাব। বড় ভাই কারমাইকেল কলেজ,মেঝ ভাই কৃষি কলেজ ও ছোট ভাই হাই স্কুলে পড়ে। তাদের পড়ালেখার খরচ মায়ের পক্ষে চালানই কষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে নিজে খেতেও পারে না,মা না খাইয়ে দিলে তাকে না খেয়ে থাকতে হয়। পলী জানায় পরিবার ও সমাজের বোঝা না হয়ে সে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চায়। মাঝে মাঝে নিজের শারীরিক অক্ষমতা মনে কষ্ট লাগে কিন্তু স্কুলে গেলে সব ভুলে যাই। সকলে তার সাথে ভাল আচরণ করে। সে জানায় আমি পড়া শুনা করে দেশের জন্য কিছু করতে ও বাবার ইচ্ছা ও মায়ের মুখে হাসি ফুটাতে চাই। এ ব্যাপারে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র জানান এসব শিশিদের আর্থিক সাহায্যে প্রদানের জন্য আমরা চেষ্টা করছি,বরাদ্দ পেলে পলী রানীকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।ইচ্ছা থাকলে অনেক কিছু করা সম্ভব এমনই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পলী রানী। তার স্বপ্ন পুরনে বাঁধাঁ এখন অর্থের অভাব। সমাজের বৃত্তবানরাই পারে তার স্বপ্ন পুরনে সহায়তা করতে। কাউনিয়ায় হাত ও পা এর অক্ষমতা সত্ত্বেও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পলী রানী।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য