প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জায়গার অভাবে ঠাকুরগাঁও সোনালী ব্যাংক লিমিটেড এখন দুর্ভোগের কারখানা হিসেবে পরিণত হয়েছে। সমাজসেবা বিভাগের প্রতিবন্ধী, বিধবা ও বয়স্ক ভাতা সুবিধা ভোগী নারী-পুরুষ ও বৃদ্ধরা তাদের ভাতার টাকা তুলতে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এখানে অপেক্ষা করেও সময় মত টাকা পাননা। সারাদিন অভুক্ত থেকে তাগাদা দিতে গিয়ে তাদেরকে বিভিন্নভাবে নাজেহাল করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আক্চা, নারগুন, জগন্নাথপুর ইউনিয়নের ৩ হাজার ৫’শ ৩৯জন প্রতিবন্ধী, বিধবা ও বয়স্ক ভাতা সুবিধাভোগী নারী-পুরুষকে ঠাকুরগাঁও সোনালী ব্যাংক লিমিটেড থেকে একই দিনে ভাতার টাকা প্রদান করা হয়। স্বল্প সময়ে টাকা নেয়ার জন্য গ্রামের অসহায় বয়স্ক নারী-পুরুষ ও বৃদ্ধরা সকাল সকাল ব্যাংকে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন। উদ্দেশ্যে তাড়াতাড়ি বই জমা করে ভাতার টাকা নিয়ে বাড়িতে ফিরে যাবেন। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ব্যাংকে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। ক্রমান্বয়ে সুবিধাভোগী বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের দুর্ভোগও বাড়তে থাকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তাদের টাকা পরিশোধ করা হয়না। জনবল সংকটের অজুহাতে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব বয়োবৃদ্ধদের হয়রানি করে আসছেন।
শুধু তাই নয়, ব্যাংকের ভেতরে বসার মতো পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় এসব বৃদ্ধ নারী-পুরুষ ব্যাংকের বাইরে মাটিতে যাযাবরের মত বসে বসে ঝিমুতে থাকে। তবুও শেষ হয়না অপেক্ষার পালা। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার প্রাক্কালে এসব প্রতিবন্ধী, বিধবা ও বয়স্ক নারী-পুরুষকে বাড়ি ফিরতে হয়। এসব সুবিধাভোগীদের সারাদিন অভুক্ত থাকার করণে অনেকেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে। অজ্ঞান ও অসুস্থ বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা টাকার জন্য তাগাদা দিতে গেলে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদেরকে ধমক দিয়ে লাঞ্ছিত করেন। এভাবেই চলে ঠাকুরগাঁও সোনালী ব্যাংক।
এ ব্যাপারে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড ঠাকুরগাঁও প্রধান শাখার ব্যবস্থাপক গোলাম রসুল জানান, সুবিধাভোগীদের নাম, ঠিকানা ভুল থাকার কারণে এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবলের অভাবে সমাজসেবা বিভাগের সুবিধাভোগীদের সময়মত টাকা পরিশোধ করা যায়না। তাছাড়া ব্যাংকের ভেতরে স্থান সংকুলানের অভাবে তাদের বসার মত জায়গা দেওয়া সম্ভব হয়না। তবে ধমক দেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য