04 Yuvraj-Singh২০১১ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলে তিনিই ছিলেন ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট। আর চার বছর পর বিশ্বকাপে তার দলে থাকা নিয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই। আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ায় ভারত যখন বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে, তখন তার টিমে থাকা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে। যুবরাজ সিং স্বয়ং স্বীকার করে নিচ্ছেন, আর কোনওদিন ভারতের হয়ে না-ও খেলার সুযোগ হতে পারে তার। বলেছেন, ‘হতেই পারে, আর কোনোদিন ভারতের হয়ে খেলার সুযোগ পেলাম না। তবে যতদিন বিশ্বাস করব আমার পক্ষে ফিরে আসা সম্ভব, ততদিন ফিরে আসার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করব।’ গত বছরের ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায় খুব খারাপ পারফরম্যান্সের পর ওয়ান ডে টিম থেকে বাদ পড়েন যুবরাজ। ভারতের হয়ে শেষ খেলেছেন গত এপ্রিলে, বাংলাদেশে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। সেখানে পাঁচটি ইনিংস খেলে মাত্র একটি হাফ সেঞ্চুরি ছিল তার। ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে মন্থর ইনিংস খেলার জন্য খলনায়ক হিসেবেও চিহ্নিত হন। এর পরে আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জাসের্র হয়ে গোটা মরসুমে ৩৭৬ রান করলেও তা জাতীয় দলে ফেরার জন্য যথেষ্ট ছিল না। ক্যান্সারজয়ী ক্রিকেটার বলেছেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে খেলতে না পারাটা খুবই হতাশাজনক। তবে এটা মানতেই হবে, গত দু’বছর আমি ধারাবাহিকতা দেখাতে পারিনি। সব কিছু আমার হাতে ছিল না। আশা করা যায়, পরিস্থিতি ভালো হবে, আবার দেশের হয়ে খেলতে পারব। না হলে জীবন খুব হতাশাজনক হবে। আমি শুধু চেষ্টা করতে পারি।’ শেষ ম্যাচ খেলেছেন দলীপ ট্রফি সেমিফাইনাল, গত সন্তাহে উত্তরাঞ্চলের হয়ে। সেই ম্যাচে করেছিলেন ৪৭। গত জুলাইয়ে লর্ডসে অবশিষ্ট বিশ্ব একাদশের হয়ে এমসিসি-র বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করেছিলেন। বলছেন, ‘নিজের নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে চাই না। কিন্ত্ত নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগই বা কই? দলীপ ট্রফি, রঞ্জি ওয়ান ডে বা বাকি যা ম্যাচ পাব, আমি যদি বিশ্বকাপ টিমে ঢুকতে পারি, সেটা বড় গল্প। বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে খেলাটা দুর্দান্ত ব্যাপার হবে। তবে সেটা যদি না হয়, ব্যাপারটা মানা কঠিন হলেও জীবন থেমে থাকবে না। আমাকে ব্যাপারটা মেনে নিতে হবে।’ সঙ্গে যোগ করছেন, ‘বিশ্বকাপ এগিয়ে আসছে, ঘরোয়া ক্রিকেটে খুব বেশি ম্যাচও নেই হাতে। কিন্ত্ত এখানে কী করবেন আপনি? নিজেকে তৈরি করতে পারি, কিন্ত্ত মনে রাখতে হবে, ভারতীয় দলে তরুণরা ভালো পারফরম্যান্স করছে।’ শুধু যুবরাজ নন, গত বিশ্বকাপে খেলা তার তিন টিমমেট শেবাগ, গম্ভীর ও হরভজনও টিমের বাইরে। তবে বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক ভীষণ জোরালো। যুবরাজের কথায়, ‘জাতীয় দলের হয়ে এক সঙ্গে খেলার স্মৃতি বারবার উঠে আসে। সবাই জানে, ওই দিনগুলো জীবনের সবচেয়ে দামি। তবে যখন আপনি টিমে নেই, তখনও নিজের সেরাটা দিয়ে যেতে হবেই। আমরা খেলাটাকে ভালোবাসি বলে খেলি। লোকে যা-ই বলুক, সেটার জন্যই আমরা খেলি।’- ওয়েবসাইট।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য