২৮ অক্টোবর কুড়িগ্রামের রাজারহাটে দূর্বত্তরা শ্বশান কালি মন্দিরের কালিমূর্তি সহ ৩টি মূর্তি ভাংচুর করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে পুলিশ এ ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের সোমনারায়ন সোনালুরকুটি শ্বশান কালি মন্দিরে দীর্ঘদিন ধরে পূজা অর্চনা চলে আসছে। ঘটনার দিন ২৮ অক্টোবর ভোরে ভক্তরা কীর্তন ও পূজা করতে গিয়ে ওই মন্দিরের পূজারী ধীরেন্দ্র না- রায়, সন্তোষ চন্দ্র, কমল চন্দ্র, দুলাল চন্দ্র ,সঞ্জিৎ রায়, অরজিৎ রায়, তরনী কান্ত ও অনন্ত রায় সহ অনেকে দেখে কে বা কারা কালিমূর্তি ভাংচুর করেছে। এছাড়া কালিমূর্তির সাথে থাকা জয়া- বিজয়া মূর্তি দেখতে না পেয়ে খুঁজতে থাকে। পরে তাদের পার্র্শ্ববর্তী বিলে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পায়। তাদের চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এসে ঘটনাটি প্রদক্ষণ করে। ঘটনার পর থেকে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ উঠেছে, ইতি পূর্বে বেশ কয়েকবার ওই এলাকার নুরউদ্দিন নামের এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ হিন্দুদের পূজা অর্চনা থেকে বিরত থাকতে নানা ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিল। বিষয়টি জানতে পেরে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন ঘটনাস্থলে যান। রাজারহাট থানার এসআই উত্তম ঘটনাস্থল তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছেন বলে জানান। এঘটনায় রাজারহাট থানার হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ কর্মকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, আমাদের এলাকা সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি এলাকা।

একটি মহল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে। অপরাধী যেই হোক তাদের ২৪ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। তা-না হলে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে। রাজারহাট থানার ওসি আঃ রশিদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, অপরাধীকে গ্রেফতারের জন্য ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। এ ব্যাপারে রাজারহাট থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য