6_ISIS_Qutar_আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে কাতার- এমন অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির কর্মকর্তারা। কাতারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বিবিসিকে বলেছেন, তারা কেবলমাত্র উদারপন্থী বিদ্রোহীদের সিআইএ এবং অন্যান্য পশ্চিমা ও আরব গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে সমর্থন ও সহায়তা দিয়ে থাকে। আর এ ক্ষেত্রে কঠোরভাবে আর্থিক নিয়ন্ত্রণ রাখা হয়।

চলতি সপ্তায় কাতারের শাসক শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির যুক্তরাজ্য সফরের আগে দেশটির পক্ষ থেকে এ ধরনের মন্তব্য আসল। আইএসকে অর্থায়নের অভিযোগ ওঠায় চলতি মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাজ্যের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আইনপ্রণেতা কাতারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। অতীতে আমিরাতের বিত্তশালী ব্যক্তিরাসহ সরকারও সিরিয়ার কট্টরপন্থী ইসলামি বিদ্রোহী-জঙ্গিদের অর্থায়ন এবং অস্ত্র সরবরাহ করেছে। আল কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত জঙ্গি গোষ্ঠী আল-নুসরা ফ্রন্টের সঙ্গে দোহার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

কিন্তু কাতারের গোয়েন্দাপ্রধানসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বলছেন, সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশারের সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেয়ার বিষয়টি গোপন কিছু নয়। তারা এও জানিয়েছেন, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের কারো কারো আনুগত্য পরিবর্তিত হয়েছে। কেউ কেউ ইতোপূর্বে উদারপন্থী থাকলেও তারা পরবর্তী সময়ে কট্টরপন্থী ইসলামি জঙ্গি-বিদ্রোহীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। কর্মকর্তারা আরো জানিয়েছেন, সিরিয়ানীতির বিষয়ে ২০১২ সাল থেকে কাতারের গোয়েন্দা সংস্থা দায়িত্ব নিয়েছে। এরপর আর্থিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অর্থায়নকারীকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

সিরিয়ায় আইএস জঙ্গিদের বিরুদ্ধে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সেনা অভিযানে কাতার সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গোপনীয় ও স্পর্শকাতর বিমানঘাঁটি আল উদেইদ, যেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের সমন্বয়ে এই অঞ্চলের বিমান হামলাগুলো পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করা হয় সেই স্থাপনাটি আমিরাতেই।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য