রংপুরে পিকআপ মালিক শ্রমিকদের সাথে সাতমাথা বস্তির লোকজনের সংঘর্ষে তিন পুলিশসহ ২০ জন আহত হয়েছে। পুলিশ ১৫ রাউন্ড টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১ টায় ওই ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, মাহিগঞ্জ সাতমাথা এলাকায় পিকআপ মালিক সমিতির অফিসে হামলা ও ভাংচুর করে শ্রমিকনামধারি শনিবাড়ি বস্তির দুস্কৃতিকারিরা। এরই প্রতিবাদে রাত সাড়ে ১১ টার দিকে পিকআপ মালিক সমিতির লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সাতমাথা এলাকায় শনিবাড়ি বস্তিতে হামলা চালায়। এনিয়ে বস্তিবাসির সাথে সংঘর্ষ বেধে যায়। পুলিশ গিযে ১০ রাউন্ড টিয়ার সেল ও ৫ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে মাহিগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির টিএসআই শাহীন আলম, এসআই সাজু মিয়া ও রফিকুল ইসলাম এবং শ্রমিক ও বস্তিবাসি উভয়পক্ষের রাফিক, কোয়েল, শাহেদ, শফিয়া, সোহাগ, লাকী, মোস্তাক, শফিসহ ২০ জন আহত হয়। তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ ও স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই বস্তিবাসিরা তারে উপর হামলার প্রতিবাদে সাতমাথা এলাকায় সড়ক অবরোধ করে। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে প্রায় আধাঘণ্টা চলার পর পুলিশ গিয়ে তাদের সরিয়ে দেয় এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। বস্তিবাসি ছালাম মিয়া ও শাফায়াত হোসেন জানান পিকআপ মালিক সমিতির আশরাফুল আলমের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালায় এবং মারধর করে। এর প্রতিবাদ করতে গেলেই তারা আবারো দলবল নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়। এ ব্যাপারে জেলা পিকআপ মালিক সমিতির আশরাফুল আলম জানান, সন্ত্রাসীরা তাদের অফিস ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে এবং শ্রমিকদের মারধর করে। তিনি অবিলম্বে এসব চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার দাবি জানিয়েছেন প্রশাসনের কাছে। তা না হলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানান। কোতয়ালি থানার ওসি আবদুল কাদের জিলানী জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। তবে সাতমাথা ও এরপাশের এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বাড়তি পুলিশ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য