প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও জাতীয় পার্র্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, ‘দিনে দিনে চিকিৎসা বাণিজ্যের কারণে চিকিৎসকদের প্রতি রোগীদের আগের মতো আস্তা নেই।’ তিনি বলেন, ‘ডাক্তারদের নামে অনেক বদনাম রয়েছে। সামান্য ব্যথা এমন রোগীর কাছেও তারা হাজার হাজার টাকা নেন। আজকাল ডাক্তারদের দেখলে মানুষ অনেক ভয় পান। এ ভাবে চিকিৎসাসেবা চলতে পারে না।’
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন কমিটির মাসিক সভায় গতকাল গতকাল রোববার দুপুরে তিনি এসব কথা বলেন। হাসপাতালের সভা কক্ষে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন কমিটির সভাপতি এরশাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. নুরুজ্জামান, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. আব্দুল কাদের, রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. মো. জাকির হোসেন, রংপুরের পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক পিপিএম, সাবেক কাউন্সিলর আজমল হোসেন লেবু, ডা. মফিজুল ইসলাম মান্টুসহ হাসপাতাল ও কলেজের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এ সময় সভায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাশ নিয়ে দালাল চক্রের বাণিজ্য বন্ধ ও রংপুর সিটি করপোরেশন কর্তৃক লাশবাহী একাধিক গাড়ি ক্রয়, হাসপাতালের পুরাতন দেয়াল ভেঙে নতুন দেয়াল তৈরি, রাজধানীর সঙ্গে পাল্লা দিতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিটে যন্ত্রাংশ স্থাপন ও উন্নতকরণ, কলেজ ও হাসপাতালের মধ্যে করিডোর নির্মাণ, হাসপাতালের প্রবেশ দ্বারের টয়লেট অপসারণ ও আগত দর্শনার্থীদের জন্য গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থাকরণ, হাসপাতালে নতুন ছাত্র ও ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণ ও পুরাতন হোস্টেল সংস্কারসহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা এরশাদের কাছে তুলে ধরেন।
এরশাদ বলেন, ‘রংপুরের মানুষ আমাকে বারবার নির্বাচিত করেছে। ভোট দিয়ে জেল থেকে মুক্ত করেছে। কিন্তু তাদের কিছুই দিতে পারিনি। হাসপাতালের উন্নয়ন করে আমি তাদের কিছুটা ঋণ পরিশোধ করতে চাই।’ রংপুর-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্র্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে গতকাল রোববার প্রথম সভায় অংশ নেন। পরে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন হোস্টেল, রংপুর সদর হাসপাতাল ও মা ও শিশুকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য