Chirirbandar Photoদিনাজপুরের নবাবগঞ্জে চলতি আমন মৌসুমে সরকারিভাবে কৃষি প্রণোদনা সহায়তার বীজ ধান ব্যবহার করে মারাত্মকভাবে ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছে কৃষকেরা। ওই বীজ ব্যবহার করে জমিতে রোপণের পর কোন কোন ক্ষেত পুড়ে যাওয়ার মত হয়েছে আবার কোন কোন ক্ষেতে মিশ্রিত ধানের রুগ্ন শীষ দেখা দিয়েছে। ফলে তারা মারাত্মক ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছে। কোন কোন কৃষক বর্গা নেয়া জমিতে ওই বীজ ব্যবহার করে বিপাকে পড়েছে। তারা জমির মালিককে কিভাবে ধান পরিশোধ করবে তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে। উপজেলার পুটিমারা ইউনিয়নের মতিহারা গ্রামের বর্গাচাষী কৃষক ইয়াকুব আলী জানালেন তিনি ওই বীজ ব্যবহার করে ২বিঘা জমি চাষাবাদ করেছেন। পুরো ফসলই পুড়ে যাওয়ার মত হয়েছে যেখান থেকে ধান পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই। একই গ্রামের কৃষক আন্তাজ আলী ও কবীর হোসেন জানালেন তাদের ফসলও অনুরুপ অবস্থা হয়েছে। তাদের ভাষায় শুধু তাদেরই নয় যারা ওই বীজ ব্যবহার করেছে তারাই ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আখেরুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ওই বীজ পরীক্ষামূলক ভাবে চাষাবাদের জন্য কৃষকদের দেয়া হয়েছিল। কৃষকেরা ১৯/২০ শতক করে জমিতে পরীক্ষামূলক ভাবে চাষাবাদ করবে। সেখানে কেউ যদি বেশি জমি চাষাবাদ করে থাকে সেখানে তার করার কিছু নাই। তাছাড়া ওই ধানেরই বীজ ব্যবহার করে অনেক জায়গায় অনেক কৃষকেরই ভালো ধান হয়েছে। অপরদিকে সম্প্রতি আমন ফসলে উপজেলা এলাকায় পচড়া রোগ ও কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এসব রোগ ও আক্রান্ত পোকা থেকে পরিত্রাণ পেতে কৃষকেরা মরিয়া হয়ে উঠেছে এবং প্রতীকারের জন্য কীটনাশক ব্যবহার করছে। এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা জানালেন “উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তারা ব্যাপক তৎপর রয়েছে এবং কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। তার ভাষায় কয়েক দিন পূর্বে আবহাওয়া অন্য রকম থাকায় ওইসব রোগ ও পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এখন বৃষ্টি হয়েছে কমে যাবে।”

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য