যৌতুকমোঃ আব্দুস সালাম- চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) থেকে:- যৌতুক একটি সামাজিক ব্যধি একথা বলার অপেক্ষা রাখে না। যৌতুক বিরোধী সভা-সমাবেশ করলেও সুফল হচ্ছে না। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার পাতা খুলে চোখে পড়ে যৌতুকের টাকার জন্য অমানুষিক নির্যাতন। এ নিয়ে সরকার যৌতুক বিরোধী আইন প্রণয়ন করেছে। ইতিমধ্যে যৌতুক লোভী স্বামীদের জেল-জরিমানাও হওয়ার খবর পাওয়া জায়। কিন্তু কোন ভাবেই এ ব্যধি সমাজ থেকে দূর হচ্ছে না। উপরোক্ত যৌতুকের দায়ের আবদ্ধ হচ্ছে নিম্নবিত্ত হতে উচ্চবিত্ত পর্যন্ত প্রায় সকল পরিবার। এ চিত্র এখন সারা বাংলাদেশে, এ থেকে বাদ পড়েনি দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলা। উপজেলায় ১২টি ইউনিয়নে দেখা দিয়েছে যৌতুকের ভয়াবহ রূপ। চিরিরবন্দর উপজেলার অধিকাংশ লোক দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে, ফলে বিয়ের সময় শ্বশুরালয় থেকে কিছু অর্থ হাতিয়ে নিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য বিয়ের পূর্বে কন্যা পছন্দের পাশাপাশি পণ্যের ন্যায় কন্যার অভিভাবকের সঙ্গে যৌতুকের দর-দাম  ঠিক করা হয়। এভাবেই যৌতুকের নামে অভিশাপ ভয়াবহ রূপ আকার ধারণ করেছে। এ কারণে কন্যাদায় গ্রস্থ অভিভাবক মহল চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। জানা যায়, চিরিরবন্দর উপজেলার প্রতিটি গ্রামে ও মহল্লায় যৌতুক দেওয়া নেওয়া এখন প্রচলিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। যৌতুক বিরোধী আইনের তোয়াক্কা না করে প্রতিটি পরিবার এখন যৌতুক লেন-দেন করে চলছে। ভিক্ষুক থেকে শুরু করে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্ত সকল শ্রেণীর পাত্রের ক্ষেত্রে যৌতুক দাবী প্রকাশ্য রূপ ধারণ করেছে। তবে পাত্রের অবস্থা ভেদে যৌতুক দাবীর কৌশলও ভিন্ন ভিন্ন হচ্ছে। বিয়ের বৈঠকে যৌতুক সম্পর্কে তেমন কোন আলোচনা না হলেও বিয়ের দিন তারিখ ধার্য হবার পূর্বেই আদান-প্রদান সমাপ্ত করা হয়। আবার কোথাও বিয়ের পরে পাত্রের যোগ্যতা রক্ষার্থে গাড়ী, ফার্ণিচার, টিভি ইত্যাদি চেয়ে নেওয়া হয়। মোট কথা যৌতুক ব্যতিত মেয়ে বিবাহ দেওয়া কল্পনাও করা যায় না। যৌতুক প্রথা কবে কোথায় শুরু হয়েছিল সে কথা বর্ণনা করা না গেলেও এটুকু অনুমান ও এতটুকু ধারনা করা হয় যে, সনাতন ধর্ম অবলম্বীদের কন্যারা পৈত্রিক সম্পত্তির অংশীদার না হওয়ার কারণে বিয়ের সময় কন্যার পিতারা উপঢৌকন হিসাবে দেওয়ার প্রচলন ছিল। এখান থেকে যৌতুক প্রথার সৃষ্টি হয়। যা আজ সামাজিক ব্যধিতে রূপান্তরিত হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য