গত শুক্রবার সন্ধ্যায় লালমনিরহাট সদরের হারাটি গ্রাম থেকে প্রীতিলতা রায় নামের অপহৃত এক মেয়েকে উদ্ধার করেছে সদর থানা পুলিশ। তবে এ ঘটনার সাথে জড়িতদের কেউ গ্রেফতার হয়নি। উদ্ধারকৃত অপহৃত প্রীতিলতা রায় (২৯) লালমনিরহাট সদরের রাজপুর ইউনিয়নের পাটোয়ারী পাড়া গ্রামের দয়াল চন্দ্র রায়ের মেয়ে ও সদর উপজেলার মধুরাম কম্যূনিটি ক্লিনিকের হেলথ প্রোভাইডার। অপহৃত ঘটনার সাথে অভিযুক্ত মামলার আসামিরা হলেন লালমনিরহাট সদরের হারাটি (বৈকুন্ঠপাড়া) গ্রামেরাদালত কর্মচারী নিখিল চন্দ্র রায় (৩২), নিশিকান্ত রায় (৩৮), রুপালী রানী (৩৪), নৃপেন্দ্র না- রা (৩৬), পুলিন চন্দ্র রায় (৩২) ও দীলিপ চন্দ্র রায় (৩০)।

ঈুলিশ জানায়, দীর্ঘ ১৫/১৬ বছরের প্রেমের সূত্র ধরে কম্যুনিটি ক্লিনিকের কর্মচারী প্রীতিলতা রায়কে লালমনিরহাট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কর্মচারী নিখিল চন্দ্র রায় তার দলবল গত ৪ অক্টোবর অপহরণ করে নিজ বাড়ি হারটিতে বন্দী করে রাখেন। এসময় নিখিলের স্বজনরা প্রীতিলতার উপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। অপহৃতার মা তুলসী রানী গত ৯ অক্টোবর রাতে লালমনিরহাট সদর থানায় আদালতের কর্মচারী নিখিলসহ ৬জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।

উদ্ধারকৃত প্রীতিলতা রায় সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘ দিনের প্রেম-প্রীতির সুবাদে নিখিলের সাথে তার অনেক অঙ্গরঙ্গ মুহুর্ত কাটে। সে স্বেচ্ছায় তাকে বিয়ে করতে রাজি রয়েছে কিন্তু অপহরণ নাটক করে তার সাথে ছলনা করার অপচেষ্টা করে। নিখিল তার নারীত্বের সর্বস্ব লুণ্ঠন করেছে তাই সে নিখিলকে জীবন সঙ্গী হিসেবে বাঁচার দৃঢ় প্রত্যয় পুলিশের কাছে ব্যক্ত করে। এামলার বাদি তুলসী রানী অভিযোগ করে বলেন পুলিশ খুবই আন্তরিকতার সাথে তার মেয়েকে নিখিলের ঘর থেকে উদ্ধার করলেও রহস্যজনক কারণে এ ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করেনি।

পুলিশের সামনেই আসামিরা মুক্তভাবে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে কোন ভমিকাই রাখেনি। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছার আগেই আসামিরা বাড়ি থেকে সটকে পড়ে আত্মগোপন করেন। সদর থানার ওসি মাহফুজুর রহমান জানান, ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য