আসন সংখ্যা বৃদ্ধি না করা, সময়সূচির তোয়াক্কা না করে ট্রেন চলাচল, ভাঙাচোরা কম্পারমেন্ট, প্রতিটি ট্রেনের আসন সংখ্যার চেয়ে তিনগুণ যাত্রীর ঠাসাঠাসি ও বন্ধ ট্রেন চালু না হওয়ায় যাত্রী ভোগান্তি কমছেনা গাইবান্ধার বোনারপাড়া রেলওয়ে জংশন ষ্টেশনে। ভোগান্তি কমাতে কোন পদক্ষেপ নেই রেলকর্তৃপক্ষের।

জেলার সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলায় আজও কোন বাস যোগাযোগ না থাকায় সাধারণ মানুষের একমাত্র রেলওয়ে। ৪টি আন্তঃনগর ও ৬টি লোকাল- মেইল ট্রেন চলাচল করে এ জংশন ষ্টেশনের উপর দিয়ে। ঢাকাগামী রাত ১০টা ৪৫মিনিটের রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের এসি ২টি, চেয়ার ১৬টি ও শোভন ১০টি আসন বরাদ্দ থাকলেও শ্রেণিভেদে প্রতিটির বিপরীতে টিকিট বিক্রি হয় ৩গুণ, দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে ঢাকাগামী লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনের প্রথম শ্রেণির ২টি, চেয়ার ২০টি ও শোভন ৬০টি আসন বরাদ্দ থাকলেও প্রতিদিন টিকিট বিক্রি হয় দ্বিগুনেরও বেশি এমন ব্যাপক চাহিদা সত্ত্বেও আসন বৃদ্ধির কোন পদক্ষেপ নেই। টিকিটের জন্য আগাম ভির করেও না পাওয়ার অভিযোগ তো আছেই। বার বার ধর্না দিয়েও সরকারি টিকিট কাউন্টার বন্ধ পেয়ে ক্ষোভের অন্ত নেই সাধারণ যাত্রীদের।

উপজেলার হলদিয়া এলাকার ঢাকাগামী লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনযাত্রী সেকেন্দার আলী জানান, পর পর ৩দিন এসেও কাউন্টার থেকে টিকিট পাই নাই। পরে বাহির থেকে দ্বিগুণ মূল্যে টিকিট মিলেছে বলে জানান তিনি। গতকাল রোববার দূর থেকে এসেও কাউন্টার খোলা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ফুলছড়ির তালহামিয়া। শান্তাহারগামী দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনের কোন আসন বিন্যাস নির্ধারিত না থাকায় বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। টিকিট করেও দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তাদের। টিকিটবিহীন যাত্রীদ্বারা ভরপুর থাকে এই ট্রেনটি। বোনারপাড়া স্টেশন থেকে ছাড়ার সময় তিল পরিমাণ ঠাঁই না থাকায় প্রতিদিন শতশত যাত্রী ঘুরে যায়।

অভিযোগ রয়েছে, সবচেয়ে বেশি যাত্রী হয়রানি করা হচ্ছে বগুড়া রেলষ্টেশনে। ট্রেন থেকে নামা সাধারণ যাত্রীদের টিকিট পরিদর্শনের নামে টিসি মকবুল হোসেন ও নাসিম লোকজনকে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে টাকা না পেয়ে লাঞ্ছিত করেন বলেও অভিযোগ যাত্রীদের। রংপুরগামী রামসাগর ও শান্তাহারগামী মেইল ট্রেনটি ২ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। কোন ঘোষণা ট্রেন ২টি বন্ধ থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে যাত্রীদের। ট্রেন চালুর আন্দোলনে নাগরিক কমিটির প্রধান আবুল কালাম আজাদ বলেন, উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষের একের পর এক আশ্বাসের পরেও রাম সাগর ট্রেন চালু হচ্ছে না। ওই ট্রেনের যাত্রী মোতালেব মণ্ডল জানান, প্রতিদিন অফিস সময়ে শতশত যাত্রীর রংপুর যাওয়ার ভরসা ছিল ট্রেনটি। এদিকে এরুটে চলাচলকারী শান্তাহার ও লালমনির হাটগামী পদ্মরাগ, টুএন্ডটি, সেভেনআপ ও ৩টি মেইল- লোকাল ট্রেন কোনটিই সময়সূচি মেনে চলাচল করে না। যাত্রীরা ঘণ্টারপর ঘণ্টা ষ্টেশনে দাঁড়িয়ে থেকে ফিরে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ট্রেনগুলোর জানলা দরজা সহ বিভিন্ন অংশে ভাঙাচোরা। টয়লেটের দূরর্গন্ধে নাক বন্ধ করে যাতায়াত করতে হয়। এব্যপারে কথা হলে বোনারপাড়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আইয়ুব হোসেন জানান, সমস্যা আছে তবে সমাধানে সময় লাগবে। লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজারের সাথে মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য