10_Koban_Syriaআন্তর্জাতিক ডেস্ক: সিরীয় সীমান্তবর্তী কুর্দি শহর কোবানির ওপর আবার হামলা শুরু করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস) । কোবানির আশপাশে আইএস’র অবস্থানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিমান হামলার পর এই বিদ্রোহী-জঙ্গি গোষ্ঠীটির হামলা একদিন বন্ধ ছিল। কিন্তু বুধবার রাত থেকে শহরটির ওপর নতুন করে আবার হামলা শুরু করেছে গোষ্ঠীটি। এদিকে কোবানির কুর্দিদের রক্ষায় তুরস্ক সরকার কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় বিক্ষুব্ধ তুর্কি কুদির্রা ব্যাপক প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্ততপক্ষে ২১ জন নিহত হয়েছেন।

কোবানির কুর্দি প্রতিরোধকারী যোদ্ধারা জানিয়েছেন, বুধবার গভীর রাত থেকে শহরের দুটি এলাকায় হামলা শুরু করে আইএস জঙ্গিরা। বুধবার রাতে ওয়াশিংটন জানায়, কোবানির কাছে আইএস জঙ্গিদের অবস্থানের ওপর আটটি বিমান হামলা পরিচালনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ও তার সহযোগী রাষ্ট্রগুলো। কোবানি এখনও কুর্দি বেসামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন এক বিবৃতিতে বলেছে, “যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড কোবানির পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সেখানকার কুর্দি বেসামরিক বাহিনীর প্রতিরোধকারীরা শহরের বেশিরভাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং আইএসআইএল’কে (আইএস) ঠেকিয়ে রেখেছে।”

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিমান হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জর্দানও অংশ নিয়েছে এবং আইএস’র কয়েকটি লক্ষস্থল ধ্বংস করেছে। এগুলোর মধ্যে আছে পাঁচটি সাঁজোয়া যান, একটি গুদাম, একটি নিয়ন্ত্রণ ও নির্দেশনা স্থাপনা, একটি যোগাযোগ স্থাপনা এবং ৮টি ছাউনি রয়েছে। এছাড়া ইরাকে আইএস’র অবস্থানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র আরো তিনটি বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু এরপরও কোবানির উপর আইএস’র অবস্থান থেকে ভারী গোলাবর্ষণ করা হচ্ছে।

কোবানির দৃষ্টিসীমার মধ্যে তুর্কি সেনবাহিনীর ট্যাঙ্কগুলো অবস্থান নিয়ে থাকলেও তারা নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে আছে।

“আজ রাতে (আইএস) শহরের দুটি এলাকায় ট্যাঙ্কসহ ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করেছে। সেখানে তীব্র লড়াই চলায় বেসামরিক লোকদের মৃত্যু হতে পারে, ” বলেন কুর্দি ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন পার্টি’র (পিওয়াইডি) কো-চেয়ারপার্সন আসিয়া আবদুল্লাহ। তুর্কিতে কোবানির ঘটনা নিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে দেশটির কুর্দি নাগরিকরা। দেশটির কুর্দি অধ্যুষিত দক্ষিণপূর্বাঞ্চল, ইস্তাম্বুল ও রাজধানী আঙ্কারায় ব্যাপক বিক্ষোভের সময় প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংর্ঘষ হয়েছে।

রাস্তায় রাস্তায় ছড়িযে পড়া পুলিশ ও কুর্দিদের খণ্ড যুদ্ধগুলো কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক ছিল।

বিক্ষোভকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে গাড়ি পোড়াতে শুরু করলে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে ও জলকামান থেকে পানি ছিটায়। ব্যাপক সংঘষের্র জের ধরে দেশের পাঁচটি প্রদেশে সান্ধ্য আইন জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

১৯৯০ দশকের প্রথম দিকের পর এবারই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হল।

রাজধানী আঙ্কারা থেকে তুর্কি প্রধানমন্ত্রী আহমেদ দাভুতোগলু জানিয়েছেন, দেশজুড়ে ১৯ জন নিহত হয়েছেন ও ১৪৫ জন আহত হয়েছেন। পরে দোগান বার্তা সংস্থা নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে।

কোবানির কুর্দি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সহায়তা করলে নিজ দেশের কুর্দি বিদ্রোহীরা শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে বলে তুরস্ক শঙ্কিত হয়ে নিষ্ক্রিয় অবস্থান নিয়ে আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষক ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য