আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের চার পুলিশ হত্যা মামলায় ২৩৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। রোববার বিকেলে সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হক গাইবান্ধা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের জামায়াত দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের নামও রয়েছে।  ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্র“য়ারি বামনডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে চার পুলিশ কনেস্টবলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এরা হলেন-রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার রহমতচর গ্রামের মৃত আনছার আলীর ছেলে তোজাম্মেল হক (ক নম্বর-৪৮৮), কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার কিশামত গোবধা গ্রামের আবু শামার ছেলে হজরত আলী (ক নম্বর ৪৯২), বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলার ঠাকুরপাড়ার তফিজ উদ্দিনের ছেলে বাবলু মিয়া (ক নম্বর-৫৩৭) ও গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার খামার ধনারুহা গ্রামের মৃত এছাহাক আলীর ছেলে নাজিম উদ্দিন (ক নম্বর- ১৫৮)। ২৮ ফেব্র“য়ারি যুদ্ধাপরাধের মামলায় জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় শোনার পর কয়েক হাজার সশস্ত্র  জামায়াত-শিবির কর্মী ও সমর্থকরা সুন্দরগঞ্জ উপজেলা জুড়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। ওইদিন বিকেল ৪টার দিকে জামায়াত-শিবির কর্মীরা উপজেলার বামনডাঙ্গা রেলস্টেশনে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা সান্তাহার-লালমনিরহাট রেলরুটের রেল লাইন তুলে ফেলে। পরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে হামলা চালায়। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা চারদিক থেকে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ঢুকে ওই চার কনস্টেবলকে পিটিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই তৎকালীন সুন্দরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু হানিফ সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজসহ ৮৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো দুই হাজার ৫০০ ব্যক্তিকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য