আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ বন্যায় ফসলের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে গাইবান্ধার চরাঞ্চল এবং নদী তীরবর্তী এলাকার কৃষকরা আমন গাঞ্জিয়া ধান চাষে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। বন্যায় ওইসব এলাকায় লাগানো আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় কৃষকরা নাবিজাতের এ ধান চাষ করছে। এ ধান চাষে খরচ কম এবং তুলনামূলক লাভজনক বলেই কৃষকরা এর প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ গাইবান্ধার উপ-পরিচালক কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার ৩০টি ইউনিয়নে ৩ হাজার ৪শ’ ২৯ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে ২ হাজার ৬শ’ ৮১ হেক্টর জমির রোপা আমন ক্ষেত। চরাঞ্চল এবং নদী তীরবর্তী এলাকার কৃষকরা প্রচন্ড খরা জনিত কারণে এবারে সেচ দিয়ে আমন চাষ করে। বন্যায় তাদের ক্ষেতের ফসলের ব্যাপক বিপর্যয় ঘটায় তারা হতাশ হয়ে পড়ে। কিন্তু বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে তারা ব্যস্ত হয়ে পড়ে তাদের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য। ইতিমধ্যে উচ্চ ফলনশীল ও হাইব্রিড জাতের আমন ধান চাষের সময় পেরিয়ে গেছে। তাই তারা স্থানীয় নাবিজাতের লাভজনক গাঞ্জিয়া ধান চাষে ঝুঁকে পড়ে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর জমির কাঁদা মাটিতে এ ধানের বীজ ছিটানো যায় অথবা চারা রোপন করে চাষাবাদ করা সম্ভব। ছিটানো বীজে ১২০ দিন এবং রোপনকৃত চারা থেকে ১০০ দিনের মধ্যে এ ধান ঘরে তোলা সম্ভব। এ ধানের চাল সুগদ্ধযুক্ত আঠালো ও সুস্বাদু। চিকন জাতের এ চাল গাইবান্ধায় খুবই জনপ্রিয় এবং লাভজনক। তাই কৃষকরা অসমযয়ে চাষ সম্ভব এ ধানের ব্যাপারে আগ্রহী থাকে বরাবরই। এক বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে ১০ থেকে ১২ মণ পর্যন্ত ধান পাওয়া যায়। অথচ ব্যয় তেমন নেই। সেচ এবং সার কোনটাই দিতে হয় না। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সত্যেন কুমার জানান, তার উপজেলায় সাম্প্রতিক বন্যায় ১ হাজার ২৪ হেক্টর জমির লাগানো আমন ধান ক্ষেত বিনষ্ট হয়েছে। লেট ভ্যারাইটি (নাবিজাত) এ ধান চাষে এএলাকার কৃষকদের বরাবরই আগ্রহ থাকে। এবারে বন্যায় রোপিত আমনের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় কৃষকরা তাদের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ইতিমধ্যে উপজেলায় ৫শ’ ৫০ হেক্টরের বেশি জমিতে কৃষকরা গাঞ্জিয়া ধানের চাষ সম্পন্ন করেছে। এ মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত এ ধান চাষ করা যাবে। কাজেই বন্যায় আমনের যে ক্ষতি হয়েছে তা পুরণ করে আরও বেশি জমিতে গাঞ্জিয়া ধানের চাষ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করছেন। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মীর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গাইবান্ধার চরাঞ্চলসহ নদী তীরবর্তী এলাকায় কৃষকরা গাঞ্জিয়া ধান চাষে যথেষ্ট আগ্রহী। কারণ এ ধান চাষে ব্যয় কম এবং চাহিদার কারণে তুলনামূলক লাভ বেশি। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে গাইবান্ধা জেলায় ১ লাখ ২১ হাজার ২শ’ ৫৯ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছিল। বন্যার আগ পর্যন্ত সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হয়েছিল ১ লাখ ২৭ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে বন্যায় ২ হাজার ৬শ’ ৮১ হেক্টর জমির আমন ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কৃষকরা যেভাবে গাঞ্জিয়া ধান চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে তাতে ক্ষতি পুষিয়েও আরও অধিক জমিতে আমন চাষ সম্ভব হবে বলে তিনি আশা পোষন করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য