সৈয়দপুরে এক কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষনের অভিযোগে আদালতে একটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষিতা নিজে বাদী হয়ে ধর্ষকের বিরুদ্ধে নীলফামারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতে গত ৯সেপ্টেম্বর ওই মামলাটি দায়ের করেছেন। আদালতের নির্দেশে ধর্ষিতার ডাক্তারী পরীক্ষা গত মঙ্গলবার নীলফামারী আধুনিক সদস হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে।

মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, বাদীনি একজন মা হারানো এতিম নারী। তাঁর মায়ের মৃত্যুর পর থেকে সে শিশুকাল হতে তাঁর মামার সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের পশ্চিমবেলপুকুর বানিয়া পাড়ার বাড়িতে বসবাস করে আসছে। বর্তমানে সে স্থানীয় একটি কলেজে একাদশ শ্রেণীতে অধ্যয়ন করছে। ঘটনার দিন গত ৩০ আগস্ট রাতে তাঁর (ধর্ষিতা) দুই মামা-মামী তাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে সৈয়দপুর শহরে অপর এক মামার বাসায় বেড়াতে যান। এ সময় বৃদ্ধ নানী জামেরুন বেওয়ার সঙ্গে বাদীনি মামার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

ওই দিন রাত আনুমানিক ৯ টার দিকে মামা-মামীদের অনুপস্থিতিতে নিজ করে ঘুমিয়ে পড়েন বাদীনি। কিন্তু তাঁর আগেই বাড়িতে লোকজন নেই জানতে পেরে একই উপজেলার পাশের বোতলাগাড়ী ইউপি’র দক্ষিন সোনাখূলী বানিয়াপাড়ার মো. শাহ্ আলমের লম্পট ছেলে নাজমুল ইসলাম (২৫) তাঁর ঘরের খাটের নিচে লুকিয়ে থাকে। এরপর গভীর রাত্রে লম্পট নাজমুল খাটের নিচ থেকে বের হয়ে ঘরে ঘুমিয়ে থাকা বাদীনির ওড়না দিয়ে মুখ বেঁধে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষন করতে থাকে। এ সময় বাদীনি মুখের বাঁধন জোরপূর্বক সরিয়ে আর্তচিৎকার করে। তাঁর চিৎকার ও কান্নাকাটি শুনে বাড়িতে থাকা তাঁর মামা এনামুল হক ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে ধর্ষক নাজমুলকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে ধর্ষককে সারারাত ওই ঘরের মধ্যে আটকিয়ে রাখা হয়।

পরদিন এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক ডাকা হয়। ওই বৈঠকে ধর্ষকের বাবাসহ তাঁর পক্ষের অন্যান্য প্রভাবশালী লোকজন হাজির হন। কিন্তু বৈঠকে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার উপস্থিত হওয়ার আগেই ধর্ষকের বাবা ও লোকজন তাকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে এ নিয়ে আর কোন বৈঠক করা সম্ভব হয়নি। এ ধর্ষন ঘটনার বিষয়ে সৈয়দপুর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহন না করে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন।

এ অবস্থায় নিরূপায় হয়ে ধর্ষিতা ওই নারী তাঁর আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতায় ধর্ষক নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে নীলফামারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতে একটি ধর্ষন মামলা করেন। মামলা নম্বর :৪২১/২০১৪ইং । তাং ০৮/০৯/২০১৪। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ধর্ষিতার ডাক্তারী পরীক্ষার নিদের্শ দেন। আদালতে নির্দেশে পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে ধর্ষিতার ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

আদালতের এ মামলা দায়ের পর থেকে প্রভাবশালী ধর্ষক ও তাঁর পরিবারের লোকজন মামলা তুলে নিতে নানা হুমকি-ধমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য