রংপুর পরিবহন ধর্মঘট ৭২ ঘণ্টার জন্য স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এমএ মজিদ এ ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই রংপুর থেকে ঢাকাগামি কোচ চলাচল শুরু হয়।

জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এমএ মজিদ জানান, ৮ সেপ্টেম্বর টোল আদায়কে কেন্দ্র করে মোটর মালিক সমিতি ও মোটর শ্রমিকদের মধ্যে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় সংঘর্ষ বাঁধে। এতে আমার (মজিদ) একটি কার ও তিনটি মোটরসাইকেল এবং জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন অফিস ভাংচুর করা হয়। এতে প্রায় ১০ লাখ ৬০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য রংপুর বিভাগের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয় শ্রমিকরা। পরবর্তীতে ধর্মঘটের একদিন পর ৯ সেপ্টেম্বর প্রশাসনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেয় শ্রমিকরা।

এনিয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে জেলা মোটর মালিক সমিতি ও জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে রংপুর সার্কিট হাউসে আলোচনায় বসেন জেলা মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা। টানা তিন ঘণ্টারও বেশি আলোচনার পর কোন সুরাহা না হওয়ায় মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এমএ মজিদ গত মঙ্গলবার ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৬ টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য রংপুর থেকে ঢাকাগামি কোচ ধর্মঘটের ঘোষণা দেন।

ধর্মঘট একদিন চলার পর গতকাল বুধবার নগরীর কামারপাড়া কোচ স্ট্যান্ডে মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন সংবাদ সম্মেলন করে। সংবাদ সম্মেলনে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এমএ মজিদ জানান, বর্তমানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভর্তির বিষয়টি বিবেচনা করে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত (২০ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুর) কোচ ধর্মঘট স্থগিত করা হলো। এরমধ্যে যদি তাদের দাবি সমুহ মেনে না দেওয়া হয় তবে পরবর্তীতে রংপুর বিভাগের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হবে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তাজুল ইসলাম হারুনসহ অন্যান্য শ্রমকিনেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য